ফেনীর সোনাগাজীতে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুবিদ রায়হানের প্রত্যাহারের দাবিতে থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনসমূহ।
শুক্রবার (২২ মে) রাত ১০টায় সোনাগাজী পৌর শহরে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভূঁইয়া ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি সোনাগাজী মডেল থানা ঘেরাও করে কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে পুনরায় পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূইয়া, পৌর সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভূইয়া, পৌর আহবায়ক ইকবাল হোসেন, সোনাগাজী সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নুর ইসলাম সম্রাট, ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক নেতা আলা উদ্দিনসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিলে আওয়ামী লীগের সার্কেল, অবৈধ সার্কেল, ঘুষখোর সার্কেল, মানিনা- মানবনা, এই শ্লোগান দিয়ে সার্কেলের পদত্যাগ দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
জানা যায়, পৌর শহরে কিশোর অপরাধে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিএনপি নেতা সৈয়দ আলম ভূইয়া ও যুবদল নেতা জাবেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে৷ এরপর কিশোর অপরাধে জড়িতদের থানায় আশ্রয় প্রশয় দেয়ার অভিযোগ ওঠে।
বিক্ষোভে নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুবিদ রায়হান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তারা দাবি করেন, স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। ফলে সোনাগাজী মডেল থানার অতিরিক্ত সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে সন্দেহভাজন আরো ৪জনকে ধরে পুলিশে দেয় বিক্ষোভরত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জয়নাল আবদীন বাবলু বলেন, তার বিরুদ্ধে সালিশ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত। জনগণের দাবির অংশ হিসেবেই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোনাগাজী পৌর যুবদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, কিশোর অপরাধে জড়িত বেলালকে আটক করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে পুলিশের গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় যুবদলের নামধারী জাবেদ ও চরদরবেশ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন রাজু। তখন আমাদের নেতাকর্মীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে বাধা দিলে জাবেদ ও রাজু হামলা করে।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভূইয়া বলেন, বর্তমানে সক্রিয় কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা ছাত্রলীগ করতো। তাদের সেল্টার দিচ্ছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সেন্টু। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য হামলায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সেও জড়িত ছিল। কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের সাথে থানায় বসে আড্ডা দেয় সার্কেল। এই সার্কেল ছাত্রলীগ করতো। সে ছাত্রলীগের লোকদের শেল্টার দিচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সার্কেলের প্রত্যাহার দাবি করছি।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, কিশোর অপরাধে জড়িত সন্দেহে আমরা তানভীরুল ইসলাম তারেকসহ ৫ জনকে আটক করেছি। তবে তারা জড়িত কিনা তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হলে থানায় কোনো কিশোর অপরাধে জড়িতদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান। এবং সেটা চোখে পড়েনি বলে মন্তব্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুবিদ রায়হানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
