নারী ও শিশু নিরাপত্তায় কঠোর নীতি চান ১৫৬ সংগঠন

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ১২:৫৯ এএম
দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এসব ঘটনাকে ‘জাতীয় জরুরি ইস্যু’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ১৫৬টি সংগঠন ও প্ল্যাটফর্ম।
 
শনিবার (২৩ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটসহ দেশের ১৫৬টি নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত সংগঠন সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। 
 
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রাজধানী ঢাকার পল্লবী, বনশ্রী থেকে শুরু করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মাগুরা, নেত্রকোনার মদনসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি সংঘটিত ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, হত্যা ও যৌন সহিংসতার ঘটনা তুলে ধরা হয়। 
 
সংবাদ সম্মেলনে আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক গত চার মাসে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। 
 
এ সময় সকল সংস্থার পক্ষে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনকে জাতীয় জরুরি ইস্যু ঘোষণা করে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, ধর্ষণ ও সকল ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন, ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর নজরদারি, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সাক্ষ্যপ্রদান প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি বাধ্যতামূলক করা, অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ডাটাবেজ তৈরি, সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ১৭টি দাবি উত্থাপন করেন। 
 
সংবাদ সম্মেলনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, দেশ এখন সামাজিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে বর্বরতা সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় ৩ যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পরেও আজকের অবস্থায় সবাই নির্বাক! মনে হচ্ছে, অপরাধীরা জেনে গেছে যে অপরাধ করেও তাদের কিছু হবে না, তাই অপরাধের মাত্রা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূলে সামাজিক অবক্ষয়, আইনের দুর্বলতাসহ মানবিক অবক্ষয়ের বিষয়গুলো রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। 
 
তিনি বলেন, সমাজে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে। শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলোকে আন্দোলন করতে হবে শিশুদের সুরক্ষা অধিকার রক্ষার জন্য। তিনি আরও বলেন, সরকারকেই শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করতে হবে। 
 
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)-এর পরিচালক শাহনাজ সুমী বলেন, ধর্ষণ, হত্যার মতো মামলা হওয়ার পরে মামলায় জড়িত তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ সম্পৃক্ত সকলের জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও, যত্রযত্র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময়ে ‘শিশু সুরক্ষা নীতি’র বাস্তব প্রয়োগের উপর জোর দেন তিনি। 
 
প্রাগ্রসর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার ইভা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সরকারি-বেসরকারি সকল সংগঠন ও নেটওয়ার্কের বন্ধন আরো দৃঢ় করতে হবে যেনো নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা একসাথে কাজ করতে পারি। 
 
সংবাদ সম্মেলনে ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একজন নির্যাতিত শিশুর বাবা তার অভিমত পেশ করেন। তিনি বলেন যে, ধর্ষণ মামলা হওয়ার পরে প্রথমে তার কন্যাশিশুকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। বর্তমানে তার কন্যাশিশুটি চিকিৎসাধীন আছে। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ খোঁজ খবর নেয় না। আসামি যেন কোনোভাবে ছাড় না পায়, তার যেন উপযুক্ত বিচার হয়, এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। 
 
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মীগণ, গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দসহ অনেকেই।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত