খুলছে মালয়েশিয়ার বাজার, চলতি মৌসুমেই আম রপ্তানির সম্ভাবনা

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম

রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের তাজা আম রপ্তানির এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের এবং কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে চলতি জুন মাসেই মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের একটি উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন দল বাংলাদেশে আসছে।

সব ঠিকঠাক থাকলে এবং প্রয়োজনীয় মান ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করা সম্ভব হলে, চলতি আম মৌসুমেই মালয়েশিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশের তাজা আম রপ্তানি শুরু হতে পারে।

মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি আমের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ২০২৩ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। দেশটির কৃষি বিভাগ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক চেম্বার, সুপারশপ এবং আগ্রহী আমদানিকারকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে হাইকমিশন।

পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও ‘পেস্ট রিস্ক অ্যানালাইসিস’ (পিআরএ) রিপোর্ট পাঠানো হয়। মালয়েশিয়ায় আমের ব্যাপক চাহিদা এবং বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী থাকার কারণে দুই দেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে এই বাজার নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের এই সক্রিয় তৎপরতার পর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগ বাংলাদেশের আম বাগান এবং তাজা ফল প্যাকিং সুবিধাগুলো সরেজমিনে যাচাইকরণের (ভেরিফিকেশন অব কমপ্লায়েন্স বা ভিওসি) আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়। মালয়েশিয়ার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, তাজা আম আমদানির ক্ষেত্রে কীটপতঙ্গ ঝুঁকি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করার জন্য এই পরিদর্শন বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর পর প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামী ০৭ থেকে ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের দুই সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবেন। তারা দেশের বিভিন্ন আম উৎপাদন এলাকা, প্যাকিং ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা এবং রপ্তানি-প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’ মালয়েশিয়ান প্রতিনিধিদলের এই পরিদর্শনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের আমের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত হবে। আর এটি সফল হলে তা কেবল মালয়েশিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশের আম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত