জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি দুটি দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কি এই (পররাষ্ট্রমন্ত্রীর) দায়িত্ব ছেড়ে দেবো? প্রশ্নটা কি সেটাই? এত তাড়াহুড়ো করবেন না। এর (একসঙ্গে দুই দায়িত্ব পালনের) নজির আছে।’
তিনি ১৯৮৬–৮৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত সর্বশেষ বাংলাদেশি হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘আমি তার একান্ত সচিব ছিলাম এবং তার সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি পূর্ণকালীনভাবে দুটি দায়িত্বই পালন করেছিলেন।’
গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক সংলাপে ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হলে তিনি পদত্যাগ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেছিলেন, পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ছুটিতে থাকবেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পদত্যাগ করব? না। প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন, পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আমাকে এক বছরের ছুটি দেবেন। পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়। আমি ছুটি নিতে পারি।’
এরপর থেকেই ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়বেন, নাকি দুটি দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করবেন—এ প্রশ্নটি সামনে আসে।
গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাকৌরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোট পড়েছে। কোনো ভোট বাতিল হয়নি এবং কেউ ভোটদানে বিরতও থাকেনি।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে বহনকারী বিমান রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সভাপতি হওয়ায় মন্ত্রিসভার অভিনন্দন