বিশ্বকাপের মঞ্চে আলজেরিয়ার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২ সালে। আর প্রথম অংশগ্রহণেই তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিল ফুটবলের আসল রোমাঞ্চ। ‘কিংবদন্তি’ লাখদার বেলৌমির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স আর দলের অদম্য সাহসে তারা তৎকালীন শক্তিশালী পশ্চিম জার্মানির মতো পরাশক্তিকে ২-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে চমক তৈরি করেছিল। প্রথম আসরেই চমক দেখানো আলজেরিয়া তখন থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছিল, তারা আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
পরবর্তী আসরগুলোতে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আলজেরিয়া ফুটবল দল এক নতুন মহাকাব্য লেখে। সেবার গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ১৬)। সেখানে হবু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির মুখোমুখি হয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য ড্র করে তারা কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল জার্মান শিবিরে। যদিও অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়, কিন্তু আলজেরিয়ানদের সেই লড়াকু ফুটবল বিশ্ববাসীর মন জিতেছিল ঠিকই। এরপর গত দুটি বিশ্বকাপে (২০১৮ ও ২০২২) কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ ভুলে এবার ‘মরুর শিয়ালরা’ ফিরছে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে।
পেতকোভিচ ম্যাজিক ও নকআউট বিশেষজ্ঞ : ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন ভøাদিমির পেতকোভিচ আলজেরিয়ার কোচের দায়িত্ব নেন, দল তখন কিছুটা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবে বসনিয়ান এই মাস্টারমাইন্ডের বড় মঞ্চে দল পরিচালনার দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে; এর আগে তার অধীনেই সুইজারল্যান্ড ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলেছিল। পেতকোভিচের অধীনে আলজেরিয়া তাদের চেনা আক্রমণাত্মক রূপ ফিরে পেয়েছে। বিশেষ করে দলটির কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল ও মাঝমাঠের শক্তিমত্তা এবার প্রতিপক্ষের জন্য বড় চিন্তার কারণ। পেতকোভিচের ঠা-া মাথার কৌশলই আলজেরিয়াকে বড় মঞ্চে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে সাফল্য এনে দিতে পারে।
মূল ভরসা মাহরেজের শেষ নাচ ও আমুরার গোলক্ষুধা : ৩৫ বছর বয়সে এসে আলজেরিয়ার আক্রমণভাগের প্রধান ‘মায়েস্ত্রো’ রিয়াদ মাহরেজ। এটিই সম্ভবত আলজেরিয়ান এই পোস্টার বয়ের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে, তাই বিদায়ের আগে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ কিছু করে দেখানোর শেষ সুযোগ মাহরেজের সামনে। তবে কেবল মাহরেজ নন, রক্ষণ ও উইংয়ে এখন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা রায়ান আইত-নুরি আছেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো। এছাড়া আলজেরিয়ার আসল ‘তুরুপের তাস’ হবেন উলফসবার্গ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আমুরা, যিনি বাছাইপর্বে ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোরার হিসেবে নিজেকে চেনাতে প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলজেরিয়া সবসময়ই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’। বড় দলগুলোকে মাটিতে নামিয়ে আনার এক সহজাত ক্ষমতা আছে তাদের (যার প্রমাণ সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচে ডাচদের হারানো)। গ্রুপ ‘সি’-তে আর্জেন্টিনা ফেবারিট হলেও, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে পেছনে ফেলে অন্তত নকআউট পর্ব বা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার পূর্ণ সামর্থ্য রাখে এই আফ্রিকান জায়ান্টরা।
