রাখাইনের পুরো নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জান্তা!

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৭ এএম

মিয়ানমারের যুদ্ধবিধস্ত রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীটি আরাকান আর্মি (এএ) ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। রাখাইনের অধিকাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া আরাকান আর্মির দাবি তারা পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজধানী সিতওয়ে ও কিয়াউকফিউকে ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গোলন্দাজ হামলা, নৌযুদ্ধ, বিমান হামলা এবং স্থলযুদ্ধের ফলে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিতওয়ের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগর ও কালাদান নদীতে অবস্থান নেওয়া জান্তা সরকারের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর সঙ্গে এএ যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই চলছে। একই সময়ে এএ বাহিনী-শ্বে মিন গান নৌ-সহায়তা ঘাঁটি এবং সিতওয়ের উত্তরে-কিয়ার মা থাউক গ্রামের কাছে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করেছে। সিতওয়ের এক বাসিন্দা ইরাবতীকে বলেন, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, রাতে আমরা অবিরাম হামলার শব্দ শুনি; এএ বিভিন্ন দিক থেকে গোলাবর্ষণ করছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে অন্তত একটি নৌযান এএ-এর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধজাহাজগুলোকে উপকূল থেকে আরও দূরে অবস্থান নিতে হচ্ছে এবং কালাদান নদীতে তাদের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে শ্বে মিন গান ঘাঁটির আশপাশের কয়েকটি সামরিক চৌকি দখল করেছে এএ। এরপর থেকে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে ওই এলাকায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। শ্বে মিন গান কালাদান নদীর তীরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি। এটি রাজধানী সিতওয়ে ও পন্নাগ্যান টাউনশিপ সীমান্তের কাছে অবস্থিত। অন্যদিকে কিয়ার মা থাউক গ্রামটি জান্তা বাহিনীর সিতওয়ে’র আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ড।

এদিকে, চীনের সমর্থনে বাস্তবায়নাধীন একাধিক বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের কেন্দ্র কিয়াউকফিউ টাউনশিপেও তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে তাউং মাও উ নৌঘাঁটি থেকে সানে শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া জান্তা সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের গতিরোধ করেছে এএ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নৌঘাঁটি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সংঘটিত সাম্প্রতিক লড়াইয়ে জান্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য নিহত হয়েছে। এএ-র ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, ২৯ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলা তীব্র সংঘর্ষে একজন ক্যাপ্টেনসহ ৪০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, এএ-এর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে জান্তা বাহিনী পিছু হটে তাউং মাও উ নৌঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ওই ঘাঁটিতে ১১তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন এবং দানিয়াওয়াড্ডি নৌ সদর দপ্তরের সেনারা মোতায়েন রয়েছে।

ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাউং মাও উ ঘাঁটির আশপাশের গ্রামগুলোতে ড্রোন ও জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে কিয়াউকফিউ এলাকায় আট হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে আরাকান আর্মির হাতে রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি চিন রাজ্যের পার্শ্ববর্তী পালেতোয়া এলাকাও তাদের দখলে। এএ প্রধান তুন মিয়াত নাইং ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে অবশিষ্ট তিনটি টাউনশিপ সিতওয়ে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং দখল করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত