মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-খ্যাত মডেল ও অভিনেত্রী তানজিনা জামান মিথিলা। শাকিব খানের সঙ্গে ঢালিউডে প্রথম সিনেমা ‘রকস্টার’ মুক্তি, বলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করার সেই রোমাঞ্চকর গল্পসহ সাক্ষাৎকারে বলেছেন তার স্বপ্নের কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ
দেশে প্রথম সিনেমা মুক্তি পেল, ‘রকস্টার’ নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
পর্দায় প্রথমবার নিজেকে দেখার পর দর্শকদের যে উচ্ছ্বাস, চিৎকার আর ভালোবাসা চোখের সামনে দেখেছি, তা সত্যিই আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। একজন নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন মুহূর্ত পাওয়া ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দর্শকদের এই ভালোবাসা, সমর্থন আর উৎসাহ আমাকে সামনে আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।
মেগাস্টার শাকিব খানের সঙ্গে এত বড় ক্যানভাসের সিনেমায় অভিনয়, মিথিলার অনুভূতি কেমন?
এত বড় প্রজেক্টে কাজ করার পর এখন নিজের দায়িত্বটা অনেক বেড়ে গেছে। তবে শুধু তারকা হওয়া নয়, আমি একজন দারুণ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর সেই তাড়না থেকেই মূলত ভালো অভিনয় এবং নান্দনিক সিনেমা করার এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ এখন কাজ করছে।
দর্শক হিসেবে নিজের ‘রকস্টার’ সিনেমাটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
‘রকস্টার’ একেবারেই ভিন্নধর্মী একটি মিউজিক্যাল ফিল্ম, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন সিনেমা খুব কমই নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রে যখন নতুন কোনো ঘরানা বা ভিন্ন মাত্রার কাজ আসে, তখনই কিন্তু একটি ইন্ডাস্ট্রি বড় হওয়ার সুযোগ পায়। আমাদের চলচ্চিত্রকে বিশ্বমানের করতে হলে এই ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমা বেশি বেশি আসা উচিত। নিজের অভিনীত সিনেমা হিসেবে আমার তো ভালো লেগেছেই, পাশাপাশি হলের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে দর্শকরাও এটি দারুণ উপভোগ করছেন।
কোন ঘরানার সিনেমার প্রতি আপনার দুর্বলতা বেশি? নিজেকে কেমন চরিত্রে দেখার স্বপ্ন দেখেন?
সিনেমার ঘরানা নিয়ে যদি বলি, তবে অ্যাকশন ফিল্মের প্রতি আমার একটা সহজাত দুর্বলতা আছে। পর্দায় প্রোপার মারামারি বা স্টান্ট করার ভীষণ ইচ্ছা আমার। হলিউডের ‘সল্ট’ কিংবা ‘টুম্ব রাইডার’ ঘরানার চলচ্চিত্রে নিজেকে দেখার একটা সুপ্ত আকাক্সক্ষা মনে লালন করি।
বর্তমান সময়ে কার কার কাজ দেখতে আপনার ভালো লাগে?
অভিনেত্রীদের মধ্যে জয়া আহসানের কাজ আমার সবচেয়ে প্রিয়; জয়া আপা অভিনয়ে সত্যিই অনন্য। পাশাপাশি মাহি ও তমা মির্জার অভিনয়ও আমার ভালো লাগে। আর অভিনেতাদের কথা বললে অবশ্যই মেগাস্টার শাকিব খানের নাম সবার আগে আসবে। এরপর আরিফিন শুভ ও আফরান নিশোর কাজও আমি বেশ পছন্দ করি। তবে সহশিল্পী কে থাকছেন, তার চেয়ে আমি স্ক্রিপ্টকে বেশি প্রাধান্য দেব, যেখানে আমার পারফর্ম করার জায়গা থাকবে।
বলিউডে আপনার একটা কাজ করেছেন। ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় দেখা গেছে। ওখানকার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
অভিনেত্রী হিসেবে ওটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম ক্যামেরা ফেস করার অভিজ্ঞতা। তখন মূলত আমি পুরোদস্তুর মডেলিং করতাম, অভিনয়ে আসার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনাও ছিল না। চরিত্রের প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে একজন মেয়ের সন্ধান করছিলেন তারা, আর সেই সূত্রেই আমাকে ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় নির্বাচন করা হয়। ভাবলাম বলিউডের কাজ, এত বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। কাজটা করতে গিয়ে বুঝলাম, দর্শকরা আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং পর্দায় দেখতে চাচ্ছেন। প্রথম কাজই দেশের বাইরে এত বড় প্রফেশনাল টিম ও প্রডাকশনের সঙ্গে হওয়ায় দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তবে তখন অভিনয় নিয়ে সিরিয়াস না থাকলেও, ‘রকস্টার’ সিনেমাটি করার সময় আমি পুরোপুরি মনোযোগী হয়েছি যে, হ্যাঁ আমি নিয়মিত অভিনয়টাই করতে চাই।
একটু পেছনে ফিরি। ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতার ২১ দিনের সেই জার্নিটা কেমন ছিল?
অভিজ্ঞতাটা এক কথায় দারুণ রোমাঞ্চকর ছিল। বিশ্বের ১২১টি দেশের সেরা সুন্দরীদের মাঝে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা যেকোনো মানুষের জন্যই অত্যন্ত গর্বের এবং ভালো লাগার বিষয়।
প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা যদি জানতে চাই, তাহলে কোনটির কথা বলবেন?
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আন্তর্জাতিক সেই মঞ্চে দেশের জন্য একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করা। এত বড় প্ল্যাটফর্মে গিয়ে যদি কোনো পজিশন না আসত, তবে নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগত। শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সেরা ৩০-এ জায়গা করে নিতে পেরেছিলাম, সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় স্বস্তির।
যারা আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
অনেকের মনে একটা ভুল ধারণা আছে যে, বিউটি পেজেন্ট মানেই শুধু গ্ল্যামারাস মেকআপ আর সুন্দর পোশাক পরা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এর পেছনে গ্রুমিং, হেয়ার স্টাইলিং থেকে শুরু করে প্রখর কমিউনিকেশন স্কিলসহ অনেক কিছু রপ্ত করতে হয়। কোনো প্রপার গাইডলাইন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ছাড়া শুধু যাওয়ার জন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ এর সঙ্গে দেশের সম্মান ও ভাবমূর্তি জড়িত থাকে।
