ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। গতকাল শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে এই অভিনব প্রতিবাদ জানান দলটির হাজার হাজার সমর্থক। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিত দিপকে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি বোস্টন থেকে সরাসরি দিল্লিতে আসেন। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সারা মাত্রই এ তরুণকে ঘিরে ধরেন ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকের ১০- ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা। দীপকে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভস্থলে আসার সময় সঙ্গে একটি করে বই এবং ভারতের জাতীয় পতাকা রাখার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভস্থলে জড়ো হয়ে সিজেপির বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেøাগান দেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও’। অন্য একটিতে লেখা ছিল, “আমরা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ চেয়েছিলাম, আপনি আমাদের ‘লিক ইন ইন্ডিয়া’ দিয়েছেন।” বিক্ষোভ চলাকালে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রশ্ন তোলেন, গত ১০-১২ বছর ধরে এই লোকেরা আমাদের হিন্দু-মুসলিম রাজনীতির বেড়াজালে আটকে রেখেছে, এতে কার লাভ হয়েছে? হিন্দু-মুসলিম রাজনীতি কি দেশের কাউকে চাকরি দিয়েছে? সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার তাদের দাবিগুলো পূরণ না করে বরং সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রমের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। বিক্ষোভে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দিল্লি পুলিশ নয়াদিল্লিতে প্রায় ২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বাসভবন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন থেকে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলার শুনানির সময় ভুয়া আইন ডিগ্রিধারী বেকার যুবকদের ককরোচ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে ব্যঙ্গাত্মক এই আন্দোলনের সূচনা ঘটে। ইন্টারনেটভিত্তিক এই প্রচারণাটি খুব দ্রুত একটি বিশাল অনলাইন কমিউনিটিতে রূপ নেয়। দলটির দাবি, সামাজিক মাধ্যমে তাদের লাখ লাখ সমর্থক রয়েছে, যার মধ্যে কেবল ইনস্টাগ্রামেই অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটি ২২ লাখের বেশি। ভারতের খ্যাতনামা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, অভিনেতা প্রকাশ রাজের মতো ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
বিক্ষোভের আগেই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সিজেপি। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তারা লেখে, ভারতের সংবিধানের পূর্ণ সমর্থনে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে তেলাপোকারা বিক্ষোভ শুরু করবে। এই বিক্ষোভ ঠেকাতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার নির্দেশনা চেয়ে ‘জনস্বার্থে মামলা’ হয়েছিল। জরুরি ভিত্তিতে ওই মামলার শুনানি করতে গত শুক্রবার অস্বীকৃতি জানায় দিল্লি হাই কোর্ট। পরবর্তী সময়ে দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়। ভারতে একের পর এক পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
