চৌদ্দগ্রামে মসজিদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মসজিদের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে খোদ ক্যাশিয়ার কর্তৃক মসজিদের উন্নয়ন তহবিলের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে অভিযোগ উঠেছে। হিসেব চাওয়ায় এলাকাবাসীর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ানোর পাশাপাশি কয়েকজনকে গালমন্দ করাসহ ক্যাশিয়ার শামসুল হক ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার  স্থানীয়ভাবে বসেও কোনো সমাধান না হওয়ায় এলাকাবাসী সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মসজিদের পূর্বের কমিটি বাতিল করেছে। এরপর নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মসজিদের নতুন কমিটি গঠিত হবার দীর্ঘ দেড় বছর অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত মসজিদের পাওনা টাকাসহ হিসাব বুঝিয়ে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর পক্ষে ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে অবিলম্বে মসজিদের উন্নয়ন তহবিলের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়াসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সোমবার (৮ জুন) বিকালে আয়োজিত  এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় এলাকাবাসী। 

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের জুগিরখিল গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদে। এ ঘটনায় মসজিদের মুসল্লিসহ এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত শামসসুল হক (৫৫) একই গ্রামের মৃত আবদুল গণি প্রকাশ গনু মিয়া ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. মাইনুল হক মজুমদার বাপ্পি, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, মো. রফিক মিয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ১৪ শ’ স্কয়ার ফুটের একটি পাকা দালান ঘরের নির্মাণ কাজের নামে ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার ও তার কয়েকজন সহযোগি মিলে মসজিদের উন্নয়ন তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ আত্মসাৎ করে নিয়েছেন। তারা শুধু ফাউন্ডেশন, নিচের গ্রেট ভিম ও ছাদ নির্মাণ করতে গিয়ে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। অথচ এ কাজে সর্বোচ্চ ব্যয় হতে পারে ২০ লাখ টাকার মত। বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ যুব সমাজের লোকজন প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার শামসুল হক ও তার ছেলেরা গ্রামবাসীকে গালমন্দ করাসহ মারধর করে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছে।

এছাড়াও পরিকল্পনাহীন কাজ করা, একই কাজ বারবার করাসহ গ্রামবাসীর মতামতকে উপেক্ষা করে চড়া মূল্যের চুক্তিতে নির্মাণাধীন মসজিদের ইলেকট্রিক্যাল ও পাইপ ফিল্টারের কাজ দেন ক্যাশিয়ারের নিজ ছেলে নিলয়কে। অভিযোগ রয়েছে, সেই কাজটিও ক্যাশিয়ার পুত্র নিলয় ঠিকঠাকমত না করে হাতিয়ে নিয়েছেন উন্নয়ন তহবিলের মোটা অংকের অর্থ। যা নিয়ে এলাকায় এখনো চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর আগে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে গ্রামবাসী মসজিদের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে এবং মসজিদের অসমাপ্ত কাজ চলমান রাখে। বর্তমানে মসজিদের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ দেড় বছর সময় পার হলেও এখনো আগের হিসাব-নিকাশ ও মসজিদের উন্নয়ন তহবিলের পাওনা টাকা নতুন কমিটির নিকট হস্তান্তর না করায় এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে তাকে বারবার জিজ্ঞেস করলে দিব-দিচ্ছি করে তিনি কালক্ষেপন করছেন। বিষয়টি নিয়ে গত দুইদিন আগে পরিকল্পিতভাবে গ্রামবাসীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার শামসুল হক। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করে সুবিধামত কাটছাট করা আংশিক ভিডিও ক্লিপ স্থানীয় সাংবাদিকদের সরবরাহ করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেন তিনি। এতে তিনি স্থানীয় সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মানহানীসহ এলাকার সুনাম-সুখ্যাতি নষ্ট করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ কাজ করেও তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে বীরদর্পে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। এতে বিস্মিত এলাকার সচেতন মহল।

তারা অবিলম্বে উক্ত মসজিদের হিসেব ও পাওনা অর্থ কমিটির নিকট হস্তান্তরের জন্য তার প্রতি অনুরোধ জানান। অন্যথায় প্রশাসনের সহযোগিতায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে মসজিদের পাওনা বুঝে নেবেন বলে হুশিয়ার করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আরছ মিয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবক আবু তাহের, মোখলেছ মিয়া, মো. সোহাগ, মো. তামীম মজুমদার, ইমরান হোসেন, রাকিব হোসেন, মো. সাকিব মো. ফাহিম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত