এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠ মাতাতে প্রস্তুত দুই ভাই। তবে তারা একই দলের হয়ে লড়বেন না। বড় ভাই জন সাউটার খেলবেন স্কটল্যান্ডের হয়ে, আর ছোট ভাই হ্যারি সাউটার খেলবেন অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে। দুই দেশের হয়ে দুই ভাইয়ের বিশ্বকাপ মঞ্চে নামার এই গল্পটি যতটা রোমাঞ্চকর, তারচেয়েও বেশি আবেগঘন। এক পারিবারিক ট্র্যাজেডি এবং বড় ভাইয়ের চলে যাওয়ার শোক কীভাবে এই দুই ভাইকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, তা ফুটবল ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
অনুপ্রেরণার নাম ছিল বড় ভাই ‘অ্যারন’
হ্যারি ও জনের জীবনের সবচেয়ে বড় রোল মডেল ছিলেন তাদের বড় ভাই অ্যারন সাউটার। হ্যারির চেয়ে ১৮ বছরের বড় অ্যারন ছিলেন তাদের কাছে ‘দ্বিতীয় বাবা’র মতো। চমৎকার গলফ খেলতেন, ভালোবাসতেন ফুটবলও। ছোট দুই ভাইয়ের ফ্যাশন থেকে শুরু করে ফুটবলের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তারই।
কিন্তু ২০২২ সালের জুলাই মাসে মাত্র ৪২ বছর বয়সে মোটর নিউরোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অ্যারন। বড় ভাইয়ের এই অকাল প্রস্থান দুই ভাইয়ের জীবনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করে।
বড় ভাইকে স্মরণ করতে এবং নিজেদের অনুপ্রেরণা জোগাতে দুই ভাই-ই শরীরে অ্যারনের ট্যাটু করিয়েছেন। লেস্টার সিটির ডিফেন্ডার হ্যারির বাম বাহুতে রয়েছে বড় ভাই অ্যারনের গলফ খেলার একটি প্রতিচ্ছবি।
অন্যান্য ভাইদের মতো জনের ক্যারিয়ারও সহজ ছিল না। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল রেঞ্জার্স-এর এই ২৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে। ২০২১ সালের নভেম্বরে যখন তিনি চোট কাটিয়ে ফিরে ডেনমার্কের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের হয়ে প্রথম গোল করেন, তখন সেই গোলটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন অসুস্থ অ্যারনকে। জন তখন বলেছিলেন, 'আমার ভাই অ্যারন আজ আসতে পারেনি, কিন্তু এই গোলটি তার জন্য। আমার রিহ্যাবিলিটেশনের সময় সে আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।'
অ্যারনের মৃত্যুর পর দুই ভাইয়ের মধ্যকার সম্পর্ক সম্পূর্ণ বদলে যায়। শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলা হ্যারি জানান, আগে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে আলাদা থাকার কারণে তাদের মধ্যে খুব একটা যোগাযোগ হতো না। কিন্তু ভাইয়ের অসুস্থতা ও মৃত্যু তাদের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে।
হ্যারি বলেন, 'অ্যারন অসুস্থ হওয়ার পর আমি আর জন খুব কাছাকাছি চলে আসি। ভাইয়ের চলে যাওয়ার পর আমাদের বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। এখন আমরা নিয়মিত কথা বলি, মেসেজ পাঠাই। এই ট্র্যাজেডির মাঝে যদি ভালো কিছু ঘটে থাকে, তবে তা হলো এটি আমাদের দুই ভাইকে এক সুতোয় বেঁধেছে।'
এবারের বিশ্বকাপে দুই ভাইয়েরই মিশন শুরু হচ্ছে আগামী রোববার। স্কটল্যান্ডের হয়ে জন মাঠে নামবেন হাইতির বিপক্ষে এবং এর ঠিক পরপরই অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তুরস্কের মুখোমুখি হবেন হ্যারি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুই ভাইয়ের মুখোমুখি লড়াই দেখার ইচ্ছা ছিল পরিবারের, কিন্তু সূচির কারণে তা হচ্ছে না। খেলা দেখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভাগ হয়ে যেতে হচ্ছে পরিবারকে। হ্যারি বলেন, 'জন গত ইউরো মিস করায় খুব ভেঙে পড়েছিল। এবার ও বিশ্বকাপে আছে, এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের পুরো পরিবার আজ গর্বিত।'
বড় ভাই অ্যারন হয়তো আজ গ্যালারিতে নেই, কিন্তু দুই ভাইয়ের হৃদয়ে আর শরীরে আঁকা ট্যাটুতে ঠিকই উপস্থিত থাকবেন প্রতিটা ম্যাচে।
মেসিকে নিয়ে কোনো ‘ঝুঁকি’ নিতে চান না স্কালোনি