ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি সামার ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে। এই উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ) এর সেক্রেটারি জেনারেল ও সিইও কলিন রিওর্ডান সিবিই। তিনি চার দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন।

নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আগে কলিন রিওর্ডান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও এএসিইউ আয়োজিত বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি আলোচনায় অংশ নেন। তিনি এতে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। এই আলোচনায় দেশের এএসিইউর সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা ছাড়াও সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। 

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৪ জন উপাচার্যসহ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। 
 
ওরিয়েন্টেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কলিন রিওর্ডান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জীবনটা মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর সময়গুলোর একটি। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা জীবনের নানা দিক সম্পর্কে জানতে পারে এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই গড়ে ওঠে আজীবনের বন্ধুত্ব। 

তিনি আরও বলেন, আপনাদের নিজের বিচারবোধের ওপর আস্থা রাখতে হবে। মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শুনতে হবে কারণ এতে নতুন কিছু শেখা যায়। তিনি সব পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এগুলো এমন গুণ যা মানুষ পছন্দ করে এবং আমাদের অন্যের থেকে আলাদা করে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, পৃথিবী এখন খুব প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী সময়মতো স্নাতক শেষ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্নাতক শেষ করার পর প্রথম বছরে ৪০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট কোথাও চাকরি পায় না। 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা শুধু নিজের জন্য বাঁচি না। একা একা আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। সমাজের অংশ হলেই আমরা নিজের পরিচয় খুঁজে পাই। তিনি বলেন, এটাই হলো আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য। পৃথিবীর জন্য কিছু করা। সমাজের জন্য কিছু করা।

প্রফেসর আনোয়ার শিক্ষার্থীদের তাদের নিজের বাবা-মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আপনাদের এই জায়গায় পৌঁছে দিতে আপনাদের পিতামাতা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন আপনাদের ভাবতে হবে, আপনারা কীভাবে তাদের সেই ত্যাগের প্রতিদান দেবেন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে বলেন। তিনি তাদের কৌতূহলী হতে, কঠোর পরিশ্রম করতে ও অন্যের সেবা করার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সক্ষমতাকে কখনো ছোট করে না দেখার আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানে চারজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অর্জনের পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন প্রফেসর কলিন রিওর্ডান, প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম এবং রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। 

সম্মাননা পাওয়া ঋষিন তালুকদার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। গত এপ্রিলে নটরডেম কলেজে আয়োজিত একটি দাবা প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। ফারহাত মাইশা আরপা আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি উপকূলীয় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।জিয়া মোহাম্মদ সায়েফ উল্লাহ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি একটি গ্রামীণ পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন। নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি একটি ইনকিউবেশন প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয়।

সম্মাননা পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী সমর্পিতা সাহা ছোঁয়া। তিনি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন। এই উদ্যোগটি একটি প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয়।

অনুষ্ঠানে অডিওভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের শিক্ষাদর্শন তুলে ধরা হয়। রেসিডেন্সিয়াল সেমিস্টার, বিভিন্ন ক্লাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন প্রফেসর সামিয়া হক এবং প্রক্টর ড. রুবানা আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টুডেন্ট লাইফের এডিশনাল ডিরেক্টর ও হেড তাহসিনা রহমান। কালচারাল ক্লাবের সদস্যরা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে গান পরিবেশন করে ব্যান্ড সহজিয়া।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হক, অফিস অব কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর ফিরদৌস আজিম, ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ফিজিকাল সায়েন্সেস এর চেয়ারপারসন ফিরোজ হাসানুল হক, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারপারসন শারমিন্দ নীলোৎপল, বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন ইফতেখার বিন নাসের, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারপারসন নাদিয়া সুলতানা দীন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের ডিরেক্টর প্রফেসর শায়লা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত