বাজেটের হিসাব নয়, মানুষ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা চায়   

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

১৯৭২ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সাধীন বাংলাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ। একসাথে দুই বছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন তিনি। প্রথম বছরের বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকার। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ছিল ৫০১ কোটি টাকার আর রাজস্ব বাজেট ছিল ২৮৫ কোটি টাকার। ওটি ছিল সম্পূর্ণ করমুক্ত বাজেট। দেশ পুনর্গঠনই ছিল ওই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য। ওইবার বাজেট উত্তর সংবাদ সম্মেলনে দেশের প্রথম রাজনীতিবিদ অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, না খেয়ে মরব, তবু শর্ত যুক্ত ঋণ নেব না। 

এর ৫৫ বছর পর আরেকজন রাজনীতিবিদ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ৫৬তম বাজেট ঘোষণা করেছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। ৫৫ বছরে বাজেট ১ হাজার ১৯৩ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ। সব ক্ষেত্রেই সরকারই নিয়ন্ত্রীকরণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে। বাজেটকে আরো ব্যবসায়ী বান্ধব করার কথাও বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়ার চিন্তার কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট হলেও মূল চ্যালেঞ্জ থাকবে রাজস্ব আহরণে। কারণ ইউনুস সরকারের দেড় বছরে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের নেতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছিল। সেই ধারা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা রয়েছে এই বাজেটে। 

নির্বাচিত সরকার হিসেবে শুরুতেই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধরীর বাজেট বক্তৃতায় সেই আভাস পাওয়া গেছে। যা দেশের অর্থনৈতিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টার প্রতিফলন। তবে সাড়ে ৯  হাজার কোটি টাকার বাজেটে উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের তুলনায় পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। এই হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হতে পারে বিএনপি সরকারের সজ্জন নেতা হিসেবে পরিচিত অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। 

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি ১৩তম বাজেট। বিএনপি সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান একাই ১২টি বাজেট দিয়েছেন। ১২টি বাজেট দেয়ার রেকর্ডে নাম রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও। এই দুই নেতাই দেশের প্রায় অর্ধেক বাজেট দেয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর বাইরে এ আর মল্লিক ১টি, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৩টি, এম এন হুদা ১টি, এম সাইদুজ্জামান ৪টি মেজর জেনারেল আব্দুল মোনেম ২টি, ওয়াহিদুল হক ১টি, শাহ এস এম কিবরিয়া ৬টি, এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম ২টি, আহম মুস্তফা কামাল, আবুল হাসান মাহমুদ আলী ১টি, সালেহউদ্দিন আহমেদ ১টি বাজেট দিয়েছেন। 

বাংলাদেশের মত দেশে সব অর্থমন্ত্রীর জন্যই আয় ব্যয়ের হিসাব মিলানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। নানা কারণে এখানে আয়ের চেয়ে পাল্লা দিয়ে ব্যয় বাড়ছে। মানুষের গড় আয় বাড়লেও মূল্লাস্ফীতি বেড়ে প্রায় ১০ এর কাছাকাছি। ফলে খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। 

মানুষ আসলে বাজেটের হিসাব দেখতে চায়না। মানুষ চায় বাজেট তাকে সস্তি দেবে। সরকারের এমন বাজেট দেবে যাতে সব মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তি আসবে। নতুন সরকারের নতুন বাজেটে মানুষ সেই স্বস্তি পাবে বলে সবাই আশা করে। প্রথম বাজেট প্রণেতা অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আগাম অভিনন্দন।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত