দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, দেশের যে অঞ্চল যেই অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত, সেখানে সেই উপযুক্ত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে অগ্রাধিকার প্রদান করবে সরকার।
অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের একটি কৌশলগত উদ্যোগ। চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রীর এই বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি-নিবিড় জেলাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষায়িত কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, কোল্ড-চেইন, সংরক্ষণাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও লজিস্টিকস উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাওর-বাঁওড় এলাকার মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য কৃষি, মৎস্য চাষ, হাঁস পালন, পর্যটন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
এবারের বাজেট প্রণয়ন ও সরকারের মধ্যমেয়াদি নীতি-কৌশল নির্ধারণে বাজেট পূর্ববর্তী অংশীজনদের সাথে ধারাবাহিক আলোচনায় প্রাপ্ত সুপারিশসমূহ সক্রিয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। বাজেট বক্তৃতায় বল হয়, বর্তমানের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই নতুন বাজেট অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করা হবে। সরকারের লক্ষ্য এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এবং তরুণ ও নারীদের জন্য সৃষ্টি হবে নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র।