বিশ্বকাপ শুরু দিনই চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ হিরো

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১১:১৪ এএম

 

ব্রাজিল তথা বিশ্ব ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ত্রিমুকুট (তৃতীয় বিশ্বকাপ) জয়ের অন্যতম নায়ক এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ব্রিতো আর নেই। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ৮৬ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাকতালীয়ভাবে, ১৯৭০ সালের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে মেক্সিকোর যে ‘এস্তাদিও আসতেকা’ স্টেডিয়ামে ব্রিতো ফুল ফুটিয়েছিলেন, ঠিক সেই মাঠেই ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের দিনেই ওপারে পাড়ি জমালেন এই কিংবদন্তি।

১৯৭০ সালের সেই ব্রাজিল দলটিকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা আন্তর্জাতিক দল হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই ঐতিহাসিক আসরের প্রতিটি ম্যাচেই (৬টি ম্যাচ) মূল একাদশে খেলেছিলেন ব্রিতো। পেলের সেই জাদুকরী দলের রক্ষণভাগের মূল ভরসা ছিলেন তিনি।

ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় একাদশটি ছিল:

ফেলিক্স; কার্লোস আলবার্তো, ব্রিতো, এভারালদো, পিয়াজ্জা; ক্লোদোয়ালদো, রিভেলিনো, গারসন; জারজিনহো, পেলে এবং তোস্তাও।

এই ঐতিহাসিক শুরুর একাদশের মধ্যে পিয়াজ্জা, ক্লোদোয়ালদো, গেরসন, জারজিনহো, তোস্তাও এবং রিভেলিনো—কেবল এই ৬ জন এখনো জীবিত আছেন।

ব্রিতো আর নেই

ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ৮ বছর রক্ষণভাগ সামলেছেন ব্রিতো। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও তিনি ব্রাজিলের স্কোয়াডে ছিলেন। সেলেসাওদের হয়ে সর্বমোট ৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি এবং ১৯৭১ সালের রকা কাপও জয় করেন।

ক্লাব ফুটবলে ব্রিতো মূলত কিংবদন্তি হয়ে আছেন ব্রাজিলের ক্লাব ভাস্কো দা গামা-র হয়ে। ভাস্কোর যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার ক্লাবটির হয়ে দুই মেয়াদে (১৯৫৭ এবং ১৯৫৯-১৯৬৯) মোট ৪০৫টি ম্যাচ খেলেন এবং ১১টি গোল করেন। ভাস্কো দা গামার হয়ে তিনি ১৯৫৭ সালে মর্যাদাপূর্ণ প্যারিস ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট এবং ১৯৬৬ সালে রিও-সাও পাওলো টুর্নামেন্ট জয় করেন। এ ছাড়া তিনি বোতাফোগো, করিন্থিয়ানস, ফ্ল্যামেঙ্গো, ক্রুজেইরো, ইন্টারন্যাসিওনাল এবং অ্যাথলেটিকোর মতো নামী ক্লাবগুলোতেও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে গেছেন।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট  সামির শাউদ এক বিবৃতিতে ব্রিতোকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, 'ব্রিতো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তবে তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে অমর হয়ে থাকবেন। '৭০-এর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ত্রিমুকুট জয়ে তাঁর অবদান আমরা চিরকাল স্মরণ করব। আমাদের বর্তমান দলের খেলোয়াড়রা যারা এই বিশ্বকাপে খেলছেন, তাঁদের জন্য ব্রিতোর লড়াকু মানসিকতা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।"

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত