ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে রেকর্ড ৮০,৮২৪ জন দর্শকের উপস্থিতিতে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল স্বাগতিক মেক্সিকো। উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। তবে ম্যাচটি শুধু গোলের জন্য নয়, বরং মাঠের চরম উত্তেজনা এবং ৩টি লাল কার্ডের নাটकीयতার কারণেও দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে। পুরো ম্যাচে রেফারির পকেট থেকে বের হয়েছে ৩টি লাল কার্ড, যার দুটিই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
ইতিহাসের বৃহত্তম এই বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি আসে ম্যাচের ৯ম মিনিটে। সৌদি লিগের চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনোনিয়োস চমৎকার ফিনিশিংয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই তারকাসহ মেক্সিকোর মোট ৬ জন খেলোয়াড়ের আজ বিশ্বকাপে অভিষেক হলো।
ম্যাচে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে এক দুর্দান্ত হেডার থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এটি জিমেনেজের ৪৬তম আন্তর্জাতিক গোল, যার মাধ্যমে তিনি মেক্সিকোর ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিংবদন্তি জ্যারেড বোর্গেত্তির রেকর্ড স্পর্শ করলেন। এখন তিনি শীর্ষ গোলদাতা হাভিয়ের ‘চিচারিতো’ হার্নান্দেজের চেয়ে মাত্র ৬ গোল পিছিয়ে আছেন।
ম্যাচ যত গড়িয়েছে, মাঠে উত্তেজনা তত বেড়েছে। ফাউল এবং তর্কের জেরে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ফুটবলার স্ফেফেলো সিথোল এবং থেম্বা জোয়ানে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমে) অতিরিক্ত আগ্রাসী ফাউল করার অপরাধে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্তেসকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে দুই দল মিলিয়ে মোট ৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ডের শাস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল মেক্সিকোকে। তবে এবার ঘরের মাঠে ৩ পয়েন্ট নিয়ে 'গ্রুপ এ'-র শীর্ষে উঠে দারুণ সূচনা করল 'এল ত্রি'রা।
বিশ্বকাপ খেলার কপাল খুললো আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডারের!
শাকিরা ও বার্না বয়ের পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ উদ্বোধন