ল্যাব্রাডর সাবস্টেশন প্রকপ্ল

সিঙ্গাপুরে ৫বাংলাদেশিসহ ৬জন ঘুষের দায়ে অভিযুক্ত

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫০ পিএম

ল্যাব্রাডর সাবস্টেশন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে হুন্দাই কনস্ট্রাকশনের ৬ কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে ওই ৬  ব্যক্তির মামলার শুনানি হবে। ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানা গেছে অভিযুক্তদের মধ্যে সিও হাং উই নামের এক ব্যক্তি সিঙ্গাপুরের নাগরিক। বাকি অন্য ৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক।দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্তদের এক লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা, পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে বলে জানা গেছে।

জানা যায় সিঙ্গাপুরে অনিরাপদ কাজের জন্য ঘুষ গ্রহণ বা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের ছয়জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে শুক্রবার (১২ জুন) আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে। ২৯ থেকে ৫৩ বছর বয়সী এই কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

৩২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শাহীনের বিরুদ্ধে ১৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ওই ৬জনের মধ্যে সর্বাধিক।

আদালতের নথি অনুযায়ী, হুন্দাইয়ের নিরাপত্তা সমন্বয়কারী ল্যাব্রাডর ভিলা রোড প্রকল্পে জড়িত বিভিন্ন উপ-ঠিকাদারের অধীনে কর্মরত অন্যান্য নিরাপত্তা সমন্বয়কারীদের কাছ থেকে প্রায় ৬,২০০ ডলার ঘুষ নিয়েছেন বা আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

জানা যায়, শাহীন ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে একাধিকবার দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে, তিনি অনিরাপদ কাজের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক অভিযোগ জারি না করার জন্য এবং কর্মস্থলে অনিরাপদ কাজ করার দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত এক কর্মীকে পুনরায় কাজে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ল্যাব্রাডর ভিলা রোড প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার হলো হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। এই প্রকল্পে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এযাবৎকালের বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ সাবস্টেশন-যার আয়তন চারটি ফুটবল মাঠের সমান-এবং একটি ৩৪-তলা বাণিজ্যিক টাওয়ার। ল্যাব্রাডর সাবস্টেশনটি নিকটবর্তী আলেকজান্দ্রা, ক্লেমেনটি, কেপেল, পাসির পাঞ্জাং এবং সায়েন্স পার্ক জেলার বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে।

শাহীন ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন নিরাপত্তা সমন্বয়কারী বিশ্বাস উজ্জ্বল (৪২), হোসেন মিঠু মোহাম্মদ আরিফ (৩৩), উদ্দিন মো. মেসবাহ (৩৪); নিরাপত্তা সুপারভাইজার বিশ্বাস প্রদীপ চন্দ্র (২৯) এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক সিও হাং উই (৫৩)।

এর মধ্যে উজ্জ্বল, মিঠু, প্রদীপ ও উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্য নিরাপত্তা সমন্বয়কারীদের কাছ থেকে মোট প্রায় ২,৭০০ ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সিও ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে চারবার অন্য নিরাপত্তা সমন্বয়কারীদের কাছ থেকে মোট ৯০০ ডলার ঘুষ নেওয়ার জন্য উজ্জ্বলের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। 

নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক অভিযোগ জারি না করার প্রলোভন হিসেবে এই ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ের মধ্যে আরও দুইবার, সিও নিরাপত্তা সমন্বয়কারীদের কাছ থেকে মোট ১,০০০ ডলার ঘুষ নেওয়ার জন্য মিঠুর সাথে ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে জানা গেছে।

অনিরাপদ কাজের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার পর একজন কর্মীকে পুনরায় কর্মস্থলে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার প্রলোভন হিসেবে এই ঘুষ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিও এক নিরাপত্তা সমন্বয়কারীর কাছ থেকে ৫০০ ডলার ঘুষ নেওয়ার জন্য উজ্জ্বল ও মিঠুর সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তিনবার, উজ্জ্বল নিরাপত্তা সমন্বয়কারীদের কাছ থেকে মোট ৬৫০ ডলার ঘুষ নেওয়ার জন্য প্রদীপের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও, ২০২৩ সালের অক্টোবরে দুইবার মোট ৭০০ ডলার ঘুষ নেওয়ার জন্য উজ্জ্বল মিঠু ও প্রদীপের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত