আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে সরকারি ল্যাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বেসরকারি ল্যাবরেটরিতেও আমদানি করা পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষার (কেমিক্যাল টেস্ট) অনুমতি দিয়েছে সংস্থাটি। এনবিআরের কাস্টমস নীতি শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে।
এতদিন আমদানিকৃত পণ্যের গুণমান ও সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত ল্যাবের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা সীমাবদ্ধ থাকায় পরীক্ষার ফলাফল পেতে আমদানিকারকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এই বিলম্বের কারণে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতো, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে এনবিআর এবার বেসরকারি খাতের ল্যাবরেটরিগুলোকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিল।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এবং আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও) স্বীকৃত বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে পণ্যের নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করানো যাবে। ওইসব ল্যাবের দেওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। ফলে আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের সময় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই সুযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে এনবিআর। আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলোকে অবশ্যই বিএবি কর্তৃক অনুমোদিত পরীক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া, আমদানি নীতি আদেশে যেসব পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট ল্যাব বা কর্তৃপক্ষের নাম উল্লেখ করা আছে, সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ওইসব পণ্য আগের নিয়মেই সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ল্যাবে পরীক্ষা করাতে হবে।
এনবিআরের এই পদক্ষেপটি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন বাণিজ্য ব্যয় কমবে, অন্যদিকে আমদানিকারকদের ভোগান্তিও অনেকাংশে লাঘব হবে।