কি আছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা খসড়ায়?

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়ার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। ইরানি আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৪ দফার এই খসড়ায় যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকার করবে।

খসড়ায় ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং ইরানের ব্যবস্থাপনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এছাড়া ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেশটিকে তার আর্থিক আয়ে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়টিও খসড়ায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গভর্নর বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বাতিলের বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।

খসড়ায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলার এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে আলোচনার পুরো সময় যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন থেকেও বিরত থাকবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে। এর অর্ধেক অর্থ চূড়ান্ত আলোচনা শুরুর আগেই ইরানের হাতে দেওয়া হবে।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি তদারকি ব্যবস্থা গঠন এবং চূড়ান্ত সমঝোতাকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে খসড়া অনুযায়ী, জব্দকৃত সম্পদের অর্ধেক মুক্ত না হওয়া, তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। চূড়ান্ত আলোচনার বিষয়বস্তু সীমিত থাকবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনের কর্মসূচিতে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার বাইরে রাখা হবে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, খসড়া দলিলটি এখনো সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত