হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের পিয়াইম গ্রামে প্রতিষ্ঠিত পিয়াইম গণপাঠাগার বইপড়া ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে পাঠকসংকটের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২২ সালে এই গ্রামের কৃতি সন্তান অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ড. প্রদীপ রায়হানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ পাঠাগার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে নিবন্ধন লাভ করে। এর নিবন্ধন নম্বর হবি-৭/২০২২। পাঠাগারটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক বই জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে পাওয়া গেছে। বাকি বইগুলো ক্রয় করা হয়েছে এবং কিছু বই স্থানীয় দাতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর একবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ৬৬ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে পাঠাগারটি। এছাড়া হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে একটি আলমারি, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও সাউন্ড বক্স প্রদান করা হয়েছে।
পাঠাগার পরিচালনায় রয়েছেন লাইব্রেরিয়ান ও পরিচালনা কমিটির সম্পাদক মোস্তফা কামাল। তিনি মাসিক ৫ হাজার টাকা সম্মানী পান। এছাড়া আয়েশা আক্তার নামে একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, লিটন রায় নামে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরও ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী পেয়ে থাকেন। ভবন ভাড়া বাবদ মাসে ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে পাঠাগার পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় ১৮ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিষ্ঠাতা ড. প্রদীপ রায়হান ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি কিছু সংস্কৃতিমনা ও হৃদয়বান মানুষের কাছ থেকেও সহযোগিতা পাওয়া যায়।
তবে পাঠাগারের রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত তিন মাসে খুবই অল্পসংখ্যক পাঠক বই ইস্যু নিয়ে পড়েছেন। পাঠাগারে পর্যাপ্ত চেয়ার ও রিডিং টেবিল থাকলেও নিয়মিত পাঠকের উপস্থিতি কম। স্থানীয়দের মতে, ডিজিটাল বিনোদনের বিস্তার এবং পাঠাভ্যাসের সংকট এর অন্যতম কারণ হতে পারে।
এদিকে সম্প্রতি পাঠাগারের সভাপতি মিজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে সভাপতির পদটি শূন্য হয়ে রয়েছে। ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি থাকলেও সর্বশেষ কবে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি সম্পাদক মোস্তফা কামাল।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নিয়মিত পাঠচক্র, সাহিত্যসভা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি এবং কমিটির সক্রিয় তদারকি বাড়ানো গেলে পিয়াইম গণপাঠাগার আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে।
হরমুজ প্রণালি খুলছে, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না