বাবার স্মৃতিবিজড়িত যুক্তরাষ্ট্রে হালান্ডের জোড়া গোল

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম

ঠিক ৩২ বছর আগে, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। সময়ের পরিক্রমায় ২০২৬ সালে সেই যুক্তরাষ্ট্রেই আরেকটি বিশ্বকাপ। এবার বাবার রেখে যাওয়া মঞ্চে রাজসিক অভিষেক হলো ছেলে আর্লিং হালান্ডের। আধুনিক ফুটবলের এই গোলমেশিনের জোড়া গোলে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার উপলক্ষটা রাঙাল নরওয়ে। জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে এশিয়ান পরাশক্তি ইরাক দারুণ লড়াইয়ের আভাস দিলেও ম্যানচেস্টার সিটি তারকার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সামনে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হালান্ড। তবে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করেছিল ইরাকই। পঞ্চম মিনিটে বক্সের ভেতর বল পেয়ে ইরাকি স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইন খুব কাছ থেকে হেড নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ২০তম মিনিটে হুলিয়ান রাইয়ারসনের ক্রস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি হালান্ড। তাঁর নেওয়া হেডটি অনেক উঁচু দিয়ে গ্যালারিতে চলে গেলে সহজ সুযোগ নষ্ট হয় নরওয়ের।

তবে গোলমেশিন হালান্ডকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোলের দেখা পায় নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থ মোলার উলফ গোলমুখে চমৎকার এক কাট-ব্যাক করেন। সেখানে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে পেছনের পোস্টে চিতার গতিতে স্লাইড করে সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়িয়ে দেন হালান্ড। এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫১ ম্যাচে নিজের ৫৬তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই সিটি তারকা। ম্যাচ শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৫৭-তে। 

গোল খেয়ে দমে না গিয়ে পাল্টা আক্রমণে মেতে ওঠে ইরাক। ৩৯ মিনিটে তারা ম্যাচে সমতা ফেরায়। আল আম্মারির বক্সে ভাসানো চমৎকার ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেড করেন হুসেইন। নরওয়ের গোলরক্ষক নাইল্যান্ডকে কোনো সুযোগ না দিয়ে বল সোজা ডান কোণের জালে জড়ায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ছিল ইরাকের মাত্র দ্বিতীয় গোল। এর আগে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো আসরে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপে একটি গোল করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।

ইরাকের এই আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল মাত্র চার মিনিট। ৪৩ মিনিটে ইরাকি ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন হালান্ড। নিজের সতীর্থের দেওয়া ব্যাক-পাস ক্লিয়ার করতে একটু দেরি করে ফেলেন ইরাকের গোলরক্ষক জালাল হাসান। সেই সুযোগে হাই-প্রেসিং করে চিতার গতিতে ছুটে যান হালান্ড। চাপের মুখে গোলরক্ষক শট নিলে বল হলান্ডের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় ইরাক। ৫৩ মিনিটে ডান দিক থেকে বিপজ্জনক এক ক্রস বাড়ান বায়েশ। সেখানে হুসেইন আরও একবার ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে দারুণ হেড করলেও তা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নরওয়ের জয় নিশ্চিত করেন লিও আস্টিগোর। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার কর্নার কিকে কোনো মার্কিং ছাড়াই লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডে ব্যবধান ৩-১ করেন এই ডিফেন্ডার।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমের সপ্তম মিনিটে ইরাকের জালে হালি পূর্ণ করে নরওয়ে, সেটিও অবশ্য এশিয়ান দলটির ভুলেই। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে নরওয়ের আক্রমণ ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো প্রথমার্ধের গোলদাতা হুসেইনের গায়ে লেগে বল নিজেদের জালে জড়িয়ে যায়। এই আত্মঘাতী গোলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

গ্রুপপর্বে আগামী ২৩ জুন সেনেগালের বিপক্ষে নামবে নরওয়ে। একইদিনে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে নামবে ইরাক। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত