খুলেছে হরমুজ, এরপরও কেন চলছে না জাহাজ?

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার (১৪ জুন)  ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালি ‘খুলে দেওয়া হয়েছে’ বলে দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, 'বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো। তেল প্রবাহিত হতে দাও।'

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, চুক্তি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৫৮০টি জাহাজ অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি, সমুদ্রে পাতা মাইন এবং সম্ভাব্য টোল বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাসহ একাধিক কারণে এখনো স্বাভাবিক মাত্রায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি।

মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে ২৫০টিরও বেশি তেলবাহী ট্যাংকার এবং ৩৩০টির বেশি কার্গো জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ ট্যাংকার স্থির অবস্থায় রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অনেক জাহাজ সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনালের কাছাকাছি জড়ো হয়ে আছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক জাহাজ তাদের অবস্থান সংক্রান্ত সংকেত সম্প্রচার করছে না।

বাণিজ্যিক বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক নাভিন দাস বলেন, 'প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক হলে প্রথমেই উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলোর বহির্গমন দেখা যাবে।'

সংকট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইওএস রিস্ক গ্রুপের মার্টিন কেলি বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে অত্যন্ত সাহসী একজন ক্যাপ্টেনের প্রয়োজন হবে।' 

ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান অনুমতি ছাড়া প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব নৌ অবরোধ আরোপ করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে তারা নয়টি ‘নিয়ম অমান্যকারী’ জাহাজকে অকার্যকর করেছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প মার্কিন নৌ অবরোধ ‘তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার’ করার ঘোষণা দিলেও পরে জানান, ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বহাল থাকবে।

১৫ জুনের স্যাটেলাইট ছবিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবেশমুখ ওমান উপসাগরের কাছে চারটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তি ঘোষণার পর জাহাজের মালিক, ক্যাপ্টেন এবং বীমা কোম্পানিগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কেউই প্রথম ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত