যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার পর এবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি। এই চুক্তির মূল মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুটিতে দুই পক্ষের অবস্থানে বিশাল ফারাক দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে এবং তারা ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন। ভ্যান্স বিষয়টিকে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সই হতে যাওয়া চুক্তির একটি প্রধান অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তবে ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি ভিন্ন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে কেবল প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার পরই। এখন পর্যন্ত তেহরান তাদের পরমাণু স্থাপনায় পরিদর্শক প্রবেশের অনুমতি বা ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত বা মন্তব্য করেনি।
সৈয়দ হোসেন মৌসাভিয়ান, যিনি অতীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে তেহরানের পরমাণু সমঝোতা দলের কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার মতে এই বিরোধের মূলে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস। মৌসাভিয়ান আল-জাজিরাকে জানান, প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির অধীনে শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির পক্ষে ইরানের দাবি এবং কর্মসূচিটি যেন কোনোভাবেই সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, সেই লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কঠোর বিধিনিষেধের দাবির মধ্যে সমন্বয় করা।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আদর্শগতভাবে চাওয়া হচ্ছে, আগামী ২০ বছর ইরান যেন সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকে। তবে ইরান তা মানতে নারাজ। এই দুই অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান এতটাই প্রকট যে, আলোচনার প্রতিটি ধাপই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু সংক্রান্ত অবশিষ্ট আলোচনাগুলো মূলত চারটি প্রধান কারিগরি ও কৌশলগত বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নির্ধারণ করা এবং ইরানের বর্তমান ইউরেনিয়ামের মজুত কী হবে তা ঠিক করা- অর্থাৎ, এগুলো কি ইরানেই থাকবে, নাকি তরলীকরণ করা হবে অথবা বিদেশে পাঠানো হবে।
পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত উন্নত সেন্ট্রিফিউজগুলোর ভাগ্য কী হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থার কঠোর নজরদারি ও যাচাইকরণের নিয়মাবলী কী হবে, তা নিয়েও দীর্ঘ বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থান আগামী দিনে আলোচনার পথকে কতটা মসৃণ বা কঠিন করে তুলবে, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের বড় প্রশ্ন।