১৬ লাখ টন তেল কিনতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন জ্বালানিমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

সরকারের পক্ষে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার খরচ কমাতে ও দরকষাকষি করতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ২০ জুন সিঙ্গাপুর সফরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির আওতায় সিঙ্গাপুরের ১০টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ তেল আমদানির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

সরকারি একাধিক সূত্র জানায়, কম দামে তেল কেনায় সমঝোতা করতে এবারই প্রথম কোনো জ্বালানিমন্ত্রী দেশের বাইরে যাচ্ছেন। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানসহ মন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেন জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্মসচিব এবং বিপিসির কমার্শিয়াল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা। 

বিপিসির একটি সূত্র জানায়, বছরে ৭০ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেল আমদানি করে সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে অর্ধেক তেল কেনা হয় দরপত্রের মাধ্যমে। বাকি অর্ধেক জিটুজি পদ্ধতিতে সমঝোতা করে কেনা হয়। জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়ার জন্য ১০ দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসির চুক্তি আছে। তার আওতায় ওইসব দেশের সরকারি-বেসরকারি কম্পানি বছরের জানুয়ারি-জুন এবং জুলাই-ডিসেম্বর দুই ভাগে তেল সরবরাহ করে।


সূত্রটি আরো জানায়, এবারের সমঝোতায় যে ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার সমঝোতা হবে, তাতে অংশ নেবে-ইনক, পেট্রোচায়না, এনআরএল, আইওসিএল, পিটিটি, ইউনিপ্যাক, বিএসপি, কেপিসিটি ও কিউ ট্রেডিং এবং পেটকো মালয়েশিয়া।

জ্বালানি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জিটুজি ভিত্তিতে তেল কেনার প্রক্রিয়ায় তেলের দাম নিয়ে কোনো সমঝোতা হবে না। প্ল্যার্টসের দামের ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি ওই তেলের দাম পরিশোধ করবে। জ্বালানিমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমঝোতা হবে প্রিমিয়াম বা জাহাজ ও ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য খরচের হিসাব নিয়ে। আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ লাখ টনের পরিশোধিত তেল দরপত্রের মাধ্যমে কেনার প্রক্রিয়া অনেকটা সম্পন্ন করেছে বিপিসি।

এতে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের প্রিমিয়াম হবে ১৩ দশমিক ১৮ সেন্ট থেকে ১৪ দশমিক ৭৮ সেন্ট। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকালীন জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বিবেচনা করে ওই প্রিমিয়াম চেয়েছে তেল সরবরাহকারীরা। আগামী শুক্রবার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেই প্রিমিয়াম অনেক কমে আসবে বলে মনে করছে বিপিসির কর্মকর্তারা। 

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্বস্তি ফিরছে। মার্চ-এপ্রিলে যুদ্ধকালীন ৩০ হাজার টনের পরিশোধিত তেল কিনতে সরকারকে দিতে হয়েছিল ৫ কোটি ডলার। এখন সেটি সাড়ে তিন কোটি ডলারে নেমে এসেছে। সবশেষ প্ল্যার্টস ফর্মুলা অনুযায়ী বিপিসি এখন ডিজেল কিনছে প্রতি লিটার ১৬৩ টাকায়। এর মধ্যে এনবিআরের আমদানি শুল্ক আছে ৩৬ টাকা।

দেশে ১৪ জুন পর্যন্ত অকটেন ৫১ হাজার ৭৮ টন, পেট্রোল ২৮ হাজার ৮৩২ টন, জেট ফুয়েল ৫২ হাজার ৯০৪ টন, ডিজেল ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৭ টন এবং ফার্নেস অয়েল আছে ৯৪ হাজার ৮৫৮ টন। এই তেল দিয়ে ৩২ দিনের বেশি চাহিদা মেটানো যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত