বাবা-মায়ের অভাবের সংসারে জন্ম শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. মুফিদুল্লাহ। টাকার অভাবে ছেলের জন্য একটি হুইল চেয়ারও কিনতে পারেননি বাবা-মা। ফলে বাবা-মা কাজ ফেলে প্রতিদিন কোলে করে মুফিদুল্লাহকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতেন। ক্লাস শেষে আবার কোলে করে বাড়ি নিয়ে যেতেন।
কিন্তু এখন থেকে আর মুফিদুল্লাহ ও তার বাবা-মাকে কষ্ট করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে হবে না। হুইল চেয়ারে করে নিজেই বিদ্যালয়ে আসতে পারবে মুফিদুল্লাহ।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নয় বছর বয়সী শিক্ষার্থী মুফিদুল্লাহকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি হুইল চেয়ার তুলে দেন ইউএনও সানজিদা রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ, মগটুলা ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন আকন্দ, শিক্ষক ও উপকারভোগী শিক্ষার্থীর বাবা-মা।
মুফিদুল্লাহর বাড়ি উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের তারাটি গ্রামে। সে ওই গ্রামের আব্দুস সালাম ও ফরিদা বেগম দম্পতির ছেলে। ৮১ নম্বর তারাটি নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুফিদুল্লাহ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু মুফিদুল্লাহ নয়, উপজেলার আরও চারটি বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি প্রকল্পের আওতায় হুইল চেয়ার পেয়েছে। এতে তারা নিজেরাই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে পারছে এবং খুবই খুশি।
হুইল চেয়ার পেয়ে শিক্ষার্থী মুফিদুল্লাহ বলে, ‘স্কুলে আসা-যাওয়া করতে আমার অনেক কষ্ট হতো। আব্বা-আম্মা কোলে করে নিয়ে আসতেন ক্লাসে। এখন থেকে হুইল চেয়ারে করে নিজে নিজেই স্কুলে যেতে পারব ভেবে খুব আনন্দ লাগছে। আমি খুব খুশি হয়েছি।’
মুফিদুল্লাহর মা ফরিদা বেগম বলেন, ছেলেটি হাঁটতে না পারায় প্রতিদিন সকালে কোনোভাবে রান্নাবান্না সেরে আমি অথবা আমার স্বামী ছেলেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাই। ক্লাস শেষে আবার বাড়ি নিয়ে আসি। টাকার অভাবে একটি হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্যও ছিল না। হুইল চেয়ারটি পেয়ে আমার ছেলে ও আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিইডিপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চারজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে একটি করে হুইল চেয়ার দেওয়া হয়েছে। একটি হুইল চেয়ারের অভাবে কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়—সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ের কোমলমতি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। এতে শিশুরা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল স্থগিত চেয়ে আবেদন