সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

মামলার জটে আটকে রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে চলমান হাজার হাজার মামলার কারণে শিক্ষক, কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পদোন্নতি প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ ও পদোন্নতিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন।

বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে সরকারি দলের সংসদ  সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট এবং নিয়োগসংক্রান্ত মামলার জটিলতার বিষয়টি উত্থাপন করেন।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সপ্তাহ থেকেই আদালতপাড়ায় গিয়ে এসব মামলার জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত আপিল বিভাগে মামলাগুলো কার্যতালিকায় আসছে না। ফলে সারাদেশে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু শিক্ষক নিয়োগই নয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগও মামলা আটকে আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দপ্তরি-কাম-নাইটগার্ড নিয়োগ কার্যক্রমও একই কারণে স্থগিত রয়েছে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বর্তমানে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দেশে ইতোমধ্যে আরও প্রায় ৩৩ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। কিন্তু পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগেই অবসরে চলে যাচ্ছেন। সারাদেশে এমন বহু শিক্ষক রয়েছেন, যারা প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। মামলার জটিলতার কারণে বিষয়গুলো সমাধান করা যাচ্ছে না।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ সংক্রান্ত দায়িত্ব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত