শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামি মনিরের যাবজ্জীবন সাজা

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ এএম

নগরের বাকলিয়ায় গত ২১ মে সংঘটিত সাড়ে চার বছরের এক শিশু ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর) চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার বিচারকাজ শুরুর অষ্টম কার্যদিবসে এবং মামলা দায়েরের ২৬ দিনের মাথায় এ রায় দেওয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, ‘শিশু ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। কোনো ব্যক্তি যখন একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন সে শুধু একটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে। শিশু সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও সুরক্ষার আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।’

গত ২১ মে বিকেলে নগরের বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা থেকে ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনিরকে আটক করে স্থানীয়রা। মনির ওই এলাকার ভাই ভাই ডেকোরেশনের কর্মচারী ছিলেন। মনির কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা। তাকে আটকের ঘটনায় পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকা।

এ ঘটনায় ২২ মে শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। ওই দিনই আসামি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মাত্র পাঁচ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। গত ৮ জুন অভিযোগপত্র আমলে নেয় আদালত। ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। মাত্র তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে রায় ঘোষণা করে আদালত।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রায় ঘোষণার পর শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান এক প্রতিক্রিয়ায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার  পেয়েছি। তবে ফাঁসি হলে আরও খুশি হতাম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত