সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে নতুন বেতন কাঠামো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে নতুন পে স্কেলের রূপরেখা, যেখানে মূল বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও বিভিন্ন ভাতা ও পেনশনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে জুলাই মাস থেকেই এর কার্যকারিতা শুরু হবে।
নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা মূল বেতন বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা হতে পারে। একই হারে দ্বিতীয় থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতাতেও বড় ধরনের সুখবর আসছে। বৈশাখী ভাতা বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমানের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন কাঠামোর আওতায় পেনশনভোগীরাও বড় ধরনের সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যাদের পেনশন মাসিক ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। এছাড়া ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এটি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একবারে পুরো কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গেজেট প্রকাশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন এই বেতন কাঠামোর সুবিধা ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে গেজেট প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীরা জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন ও ভাতা বুঝে পাবেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর এই উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।