রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ারী এলাকার যোগীনগর সড়ক, কাপ্তান বাজার, জয়কালী মন্দির, বনগ্রাম সড়ক, রবিদাসপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে স্থানীয় ছাত্রদলের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের দল, গণতন্ত্রের দল। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং আমরা সব সময়ই তা করে আসছি। আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দীর্ঘ সময় তীব্র দমন-পীড়ন, গুম ও খুনের রাজনীতির শিকার হয়ে এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে কখনও স্বশরীরে মাঠে এসে এভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিংবা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নিতে দেখা যায়নি। আমাদের দল জনগণের অধিকারের কথা বলে। তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে বর্ষা মৌসুম। এই বৃষ্টি-বাদলের দিনে নর্দমা বা ড্রেনে পানি জমে ডেঙ্গুর লার্ভা তৈরি হয়, যা থেকে মশার বংশবিস্তার ঘটে। এছাড়া যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আগে যারা এই এলাকার দায়িত্বে ছিলেন, তারা বিষয়গুলো নিয়ে তেমন কাজ করেননি। এবার আমাদের এলাকার এক ছোট ভাই স্বউদ্যোগে এগিয়ে এসেছে।’
আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের উদ্যোগে মাঠে নেমেছি। আমরা অতীতেও ড্রেন পরিষ্কারসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজ করেছি। এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মানুষকে মুক্ত ও সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় যারা আগামীতে কমিশনার প্রার্থী হতে চান বা এলাকার উন্নয়ন করতে চান, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ—ড্রয়িংরুমে বসে না থেকে জনগণের মাঝে আসুন এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করুন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, সবসময় জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং তাদের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। আমরা যদি সত্যিই জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করতে পারি, তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ এবং এর ফলে যে অকাল মৃত্যু ঘটছে, তা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা আরও বলেন, ‘পদের জন্য আমরা রাজনীতি করি না। পদ আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা বা কৌশলগত কারণে যেকোনো সময় পদের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আমরা যদি নিজেদের কাজের প্রতি সচেতন ও সৎ থাকি, তাহলে পদ কোনো বাধা নয়। কোনো দলই চায় না তার যোগ্য কর্মীর পদ চলে যাক। আমরা যদি মাঠে সক্রিয় থাকি, তাহলে দল যথাসময়ে মূল্যায়ন করবেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পদের মোহে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করে রাজনীতিতে এসেছি। তাই পদ থাকুক বা না থাকুক, তাতে আমাদের কাজের গতি কমবে না। আমরা জনগণের পাশে আছি, জনগণের সঙ্গেই থাকব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।’
ক্রীড়াসেবী ভাতায় অনিয়মের অভিযোগ, সুবিধা পেলেন সচ্ছলরা