কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় চার দিন ধরে অবস্থান করা পুশইন চেষ্টার শিকার ৯ জনের মধ্যে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে আর দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, মানবিক কারণে তাদের কোনো এক সময় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে দুই শিশু ও এক নারীসহ ছয়জন এবং ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে তিন যুবককে গত চার দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার (১৮জুন) সকালে গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, সেখানে থাকা দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা আর নেই।
স্থানীয়দের দাবি, বুধবার গভীর রাতে বা বৃহস্পতিবার ভোরে শিশু দুটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বাবা-মাসহ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা কোন দেশে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আলী বলেন, গতকালও গয়টাপাড়া সীমান্তে ছয়জনকে দেখেছি। আজ গিয়ে দেখি দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা সেখানে নেই।
দুই শিশুসহ চারজনকে সরিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশইন চেষ্টার শিকার দুই যুবক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে একই উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তে আরও তিন যুবক এখনও শূন্যরেখায় রয়েছেন। ফলে দুই সীমান্তে বর্তমানে মোট পাঁচজন অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ওই পাঁচজনকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
বিষয়টি জানতে রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিজিবির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।