লুকিয়ে বাংলা শেখা ‘সৈনিক বধূ’

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার কারণে তৎকালীন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মেয়েদের বাংলা শেখার ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল, তখন বাধ্যতামূলকভাবে শুধু আরবি ও উর্দু শেখানো হতো। এই কড়া নিয়ম কবি সুফিয়া কামালকে আটকে রাখতে পারেনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মামার বাড়িতে আসা বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা দেখে এবং মায়ের পরোক্ষ সহযোগিতায় মামার লাইব্রেরিতে বসে বড়দের অলক্ষ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে তিনি বাংলা পড়তে ও লিখতে শিখে ফেলেন।

বাংলা ভাষার প্রতি এই গভীর অনুরাগই পরবর্তী সময়ে তাকে সাহিত্য রচনায় প্রলুব্ধ করে। তবে আমরা প্রধানত তাকে কবি হিসেবে চিনলেও, মাত্র ১২ বছর বয়সে (১৯২৩ সালে) বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’র মাধ্যমে সাহিত্যে সুফিয়া কামালের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন কিশোরীর গল্প লেখা ও তা প্রকাশ হওয়াটা ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা।

শিক্ষাজীবনে প্রথাগত ডিগ্রি না থাকলেও মেধা ও সাহিত্যচর্চার সুবাদে ১৯৩৩ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা করপোরেশন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এ সময় কবি জসীমউদ্দীনসহ বহু গুণী সাহিত্যিকের সঙ্গে তার সুদৃঢ় সংযোগ তৈরি হয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই মহান নারী ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ও ‘রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়, যা ছিল সুফিয়া কামালের অনন্য অবদানের প্রতি জাতির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার নিদর্শন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত