গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি খেয়ে ২০০ শ্রমিক অসুস্থ

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:১০ এএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের একটি পোশাক কারখানায় সরবরাহ করা পানি পান করে অন্তত ২০০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চন্দ্রা এলাকার ড্রেসম্যান লিমিটেড নামে পোশাক তৈরি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনার পর অসুস্থ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসী, কারখানার শ্রমিক-কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকাল ৮টায় ওই কারখানায় কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। এরপর কাজের ফাঁকে শ্রমিকরা কারখানার সরবরাহ করা পানি পান করেন। সকাল সাড়ে ৯টার পর হঠাৎ কারখানার চতুর্থ তলায় শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে কারখানার অন্য ফ্লোরের শ্রমিকরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অনেকের পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি, দুর্বলতা ও শ^াসকষ্টের মতো নানা উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায় অসুস্থ শ্রমিকদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এতে প্রায় ২০০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক। পরে এলাকাবাসী, সহকর্মী ও কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। এদের মধ্যে বেশ কিছু শ্রমিকদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কারখানার এজিএম (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম জানান, অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত সোমবার টানা বৃষ্টির পর আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকরা সম্ভবত জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়া কলের পানি পান করেছেন। এ কারণে শ্রমিকদের ফুড পয়জনিং হয়ে থাকতে পারে। ফলে সকালে কাজে এসে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারখানার পানিতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তারপরেও কারখানার সরবরাহকৃত পানির মান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশফাক উল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানি পান করার কারণে এই সমস্যা হতে পারে। পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, কিছু শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত