পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, তিস্তা নদী অববাহিকা, এটার একটা পার্মানেন্ট সলিউশন প্রয়োজন এবং এই স্থায়ী সমাধানের জন্য পাশাপাশি আমাদের উত্তরবঙ্গের একটা অর্থনৈতিক রূপান্তরের যে একটা এক্সটেনশন, সেটা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য খুব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মন্ত্রী দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকা ও তিস্তা নদী অববাহিকা পরিদর্শন শেষে নীলফামারীর ডালিয়াস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিআইপি গ্রেস্ট হাউস অবসরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক ও সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা) ব্যারিস্টার রাজিব হাসান প্রধান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) ড. মোহা. সরফরাজ বান্দা, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এসময় পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা আমাদের অতিব প্রয়োজন এবং এটার গুরুত্ব শুধু এ অঞ্চলে না, সারা বাংলাদেশের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যার কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ওই যে ‘জাগো বাহে’ আন্দোলনে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই জাতির সামনে, এলাকাবাসীর সামনে কমিটমেন্ট করেছেন এবং ইনশাল্লাহ ওই কমিটমেন্টের ধারাবাহিকতায় তিস্তা পরিদর্শনে আমরা এসেছি।
মন্ত্রী বলেন, এখানে আসার, তিন দিন আগে পার্লামেন্টে আমি এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু একসঙ্গে মিলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সুখবর হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নিবেন এবং ওই কমিটমেন্টের ভিত্তিতে নতুনভাবে এই যে কাজটি শুরু করা হবে, এই কাজকে দৃশ্যমান করা হবে এবং বাস্তবে বাস্তবায়ন করা হবে। যা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির অংশ।
মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই মিলে আজকে একত্রিত হয়ে তিস্তা এলাকায় এসেছি, সরেজমিনে দেখেছি, ইনশাল্লাহ পদ্মা ব্যারেজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে খুব শিগগিরই আমাদের এই টেকনিক্যাল টিম কাজ করার পর দৃশ্যমান রিপোর্ট হবে এবং দৃশ্যমান এই কাজে যে একনেকে পাস করানো, সেই কাজটাও আমরা দৃশ্যমান করে এখানে কাজ শুরু করব ইনশাল্লাহ।
মন্ত্রী বলেন, তিস্তা সারা বাংলাদেশের দুঃখ এবং আমরা যখনই এই কাজগুলা দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে পারব- হয়তোবা কয়দিন সময় লাগবে, একটা প্রকল্প করতে দুই বছর, তিন বছর, চার বছর, পাঁচ বছর, ছয়-সাত বছর সময় লাগবে- কিন্তু যে বেনিফিটটা, যে রেজাল্টটা, যে সুবিধাটা আমরা এ অঞ্চলের মানুষ পাব, সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে, অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করে বলেন, তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে কৃষি উপকরণ এবং কৃষি এলাকা হিসেবে, কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে আজকে যেটা আপনারা পাচ্ছেন নীলফামারীতে, অন্যান্য জেলা তা পাচ্ছে না। যেটা আপনাদের দুঃখ, সেটা দ্রুত আপনাদের আনন্দে পরিণত হবে এবং আপনাদের উৎপাদনে পরিণত হবে এবং অর্থনীতির ভিত চাঙ্গা হবে। উত্তরাঞ্চলের জন্য যে সমস্যাটা দূরীকরণ, এই দূরীকরণ করতে গিয়ে এই প্রকল্পটা আমাদের জন্য খুব জরুরি। খুব বেশি প্রয়োজন, অত্যাবশ্যকীয়। সেজন্য আমরা এই প্রকল্পটা গ্রহণ করতে যাচ্ছি।
মন্ত্রী বলেন, কেউ এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে-পিছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি যে, পরিকল্পিত প্ল্যান ওয়াইজ যদি আমরা না আগাই, তাহলে আমরা হোঁচট খেতে পারি। যার কারণে আমাদের ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম আমার সাথে এখানে এসেছে। এই টিম শুধু কাজ একা করবেন না, আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের আইডব্লিউএম, আমাদের আরেকটা আছে সিইজিআইএস, বিদেশী সেটা যদি দুই-চারটা বিভিন্ন দেশের হয় আমরা সবার মতামত গ্রহণ করব।
সকলের মতামত গ্রহণ করে আমাদের বাংলাদেশের যারা বিশেষজ্ঞ টিম রয়েছেন এবং বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ওনারাও একটা সেমিনারের আয়োজন করবেন আমাকে বলেছেন। সবাই মিলে আলোচনা করে খুব অল্প সময়ে, শিগগিরই, দ্রুততার মধ্য দিয়ে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা একনেকে পাস করানোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেব।
আমাদের এই কাজ আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দৃশ্যমান করব এবং তারেক রহমান সাহেব, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যেন খুব শিগগিরই আমাদের মাঝে এসে এই কাজটা উদ্বোধনও করতে পারেন, সেই কাজটাও আমরা সম্পন্ন করব।