স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কমিটি করবে বিবিএস 

বিগত সময়ে তথ্যে কারসাজির তদন্ত হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

দেশের বিভিন্ন জরিপ ও অর্থনৈতিক সূচকের তথ্য আরও নির্ভুল, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে দুটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এছাড়া বিগত সময়ে বিবিএস থেকে প্রাকাশিত তথ্য কারচুপি করা হয়েছে কী না তা তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। 

শনিবার জিডিপি, সিপিআই, মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হার সূচক প্রণয়ন বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিয়ম সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবদিকদের এ তথ্য জানান। সভায় পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক এবং বিবিএসের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন ।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত অবস্থা জানা এবং তা কমাতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা জরুরি। কোনো উদ্যোগ কার্যকর হলে সেটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং কার্যকর না হলে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন আনার জন্য নির্ভুল তথ্য অপরিহার্য।

তিনি বলেন, এ কারণেই বিবিএস বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ সভা করেছে। সভায় প্রাপ্ত মতামত সংকলন করা হবে এবং সিপিআই, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি হিসাবের পদ্ধতি আরও উন্নত করার লক্ষ্যে দুটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিগুলো সুপারিশ দেওয়ার পর সেগুলো নিয়ে আবারও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকৃত তথ্য আমাদের সামনে থাকা দরকার। সে কারণে আমরা কোথা থেকে শুরু করছি, সেই তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে আমরা দুটি পথে এগোচ্ছি। একটি হচ্ছে, এখন থেকে যে তথ্য আসবে তা যেন প্রকৃত তথ্য হয়। অন্যদিকে অতীতে তথ্য-উপাত্ত তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে, অনেকটা ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশনের মতো। কোথায় কোথায় তথ্য কারচুপি করা হয়েছে তাও খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে এসব তথ্যের ওপর মানুষের আস্থা ও ভরসা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরে নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের মানোন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং জাতীয় তথ্যভান্ডার হিসেবে বিবিএসের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

সভায় সিপিআই, মূল্যস্ফীতি ও মজুরি হার সূচক প্রণয়নের পদ্ধতি নিয়ে উপস্থাপনা করেন বিবিএসের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের উপপরিচালক স্বজন হায়দার। অন্যদিকে জিডিপি প্রণয়ন পদ্ধতি, তথ্যের উৎস, কভারেজ, ত্রৈমাসিক জিডিপি (কিউজিডিপি) এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন একই উইংয়ের উপপরিচালক তোফায়েল আহমদ।

সভায় জিডিপি ও সিপিআই প্রণয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি, মূল্যস্ফীতি পরিমাপের আধুনিক ধারণা, ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রণয়ন এবং জাতীয় হিসাব ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এসব সূচক প্রণয়নের কার্যক্রম আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন সুপারিশ দেন।

তারা এ কার্যক্রমকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জিডিপি সংকলনে তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুণগত মানসম্পন্ন তথ্য প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ হালনাগাদ; বিবিএসকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্সের সুপারিশ বাস্তবায়ন; কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন কাঠামো যৌক্তিক করা; স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধি এবং বিবিএসের জরিপ কার্যক্রম নিয়মিত করার সুপারিশ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত