ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সঠিক দক্ষতা ও সুযোগের মাধ্যমে এই তরুণরাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম) এর উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। এ সামিটে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা অংশ নেন। এ সময় মীর হেলাল চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্ট্যাক্ট সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি), এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করে। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল ক্যারিয়ার এক্সপো, সেমিনার, তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড, নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম এবং তরুণদের জন্য বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক আয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন নিজের দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি পেশা এবং রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমপি যখন ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’ গঠন করেছিলেন, তখন মূল দর্শনই ছিল দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা এবং তাদের জন্য একটি সঠিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে তরুণদের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেই প্রতিকূল সময়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সাথে নিয়ে সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা সত্য ও সঠিক ন্যারেটিভ তুলে ধরেছিলাম।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সেবা এখন অটোমেটেড বা অনলাইন করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। ‘ভূমি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই ট্যাক্স প্রদান, নামজারি (মিউটেশন) সহ বিভিন্ন আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য দেশব্যাপী ৮৯৩টি ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী অত্যন্ত স্বল্প খরচে নাগরিকরা অনলাইন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে যুগান্তকারী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ে আমরা ‘জিও ফেন্সিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি অ্যাপের পাইলটিং শুরু করেছি। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেড মার্ক বা লাল সংকেত চলে আসবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অত্যন্ত কম খরচে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
দেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের মেধার প্রশংসা করে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী। প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো সহযোগিতা ছাড়াই স্বশিক্ষিত হয়ে তারা ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে বিশ্ব দরবারে অবদান রাখছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এই তরুণদের আরো কিছু বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মামুন, বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মোঃ তানজিরুল বাসার, অর্থ সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসনাদ-ই-আহমদ, পরিচালক আবু দাউদ খান, পরিচালক আব্দুল কাদের এবং পরিচালক সায়মা শওকত।
আবদুল্লাহ আল মামুন তার বক্তব্যে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব এবং এ ধরনের আয়োজন সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামিটে বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, দেশের বিপিও ও আইটিইএস শিল্প বর্তমানে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এবং ১ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় এবং ৩ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাক্কো।
সামিটের সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাক্কো পরিচালক সায়মা শওকত, অগমেডিক্স বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব নোমান, কাজ ৩৬০ এর প্রতিষ্ঠাতা এমরাজিনা ইসলাম, মোঃ মুসনাদ-ই-আহমদ, রাহিতুল ইসলাম, শুভাশীষ ভৌমিক, মোঃ তাজদিন হাসান, এবং এডব্লিউ কমিউনিকেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সাবের শাহ।