ডা. মনালিসা ফেরদৌস
সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ও হসপিটাল, কুমিল্লা
গর্ভকালে অনেক হবু মায়েরই ত্বকে স্ট্রেচ মার্ক দেখা দেয়। সন্তান ধারণের ফলে ত্বকে এক ধরনের সাদাটে দাগ হয়। দেখতে খারাপ লাগা ছাড়া এই দাগের কোনো পাশর্^প্রতিক্রিয়া নেই। স্ট্রেচ মার্ক শুধু তলপেটেই দেখা দেয় এমনটা নয়। পেট, থাই, বুক, লোয়ার ব্যাক অর্থাৎ শরীরের যে যে অংশে বেশি ফ্যাট জমা থাকে সেখানেই স্ট্রেচ মার্ক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মেয়েদের নয় পুরুষদেরও স্ট্রেচ মার্ক হতে পারে। আর এটা হতে পারে শরীরের যেসব জায়গায় ফ্যাট জমে সেখানে।
কেন হয়
মূলত বাড়তি ওজনের কারণেই এমন হয়। শরীরের আয়তন বেড়ে গেলে ত্বক বাড়তি আয়তন ঢাকতে প্রসারিত হয়। ফলে এই দাগের সৃষ্টি হয়। সাধারণত প্রেগন্যান্সির বিশ সপ্তাহের মাথায় এই স্ট্রেচ মার্ক দেখা দেয়। এই সময় স্বাভাবিকভাবে একজন নারীর ওজন প্রায় ৯ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত বাড়তে পারে। এরপর প্রতি সপ্তাহে আধ কেজি করে ওজন বাড়ে। হঠাৎ করে এত ওজন বেড়ে যাওয়া এবং বাড়তে থাকার ফলে প্রেগন্যান্সির থার্ড ট্রাইমেস্টার থেকে স্ট্রেচ মার্ক দেখা দেয়।
যদিও অনেকে মনে করেন ওজন কম হলে স্ট্রেচ মার্ক হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কিন্তু এই ধারণা ভুল। প্রেগন্যান্সির সময় অপেক্ষাকৃত কম ওজনের নারীদেরও ত্বক আর টিস্যু ভেতর থেকে ফেটে যায়। পরে অনেকের ক্ষেত্রে ঠিক হয়ে যায় আবার অনেকের ক্ষেত্রে দাগ থেকে যায়। পুরুষদের ওজন আধিক্যের কারণে এমনটা হয়।
এই সময়টায় বিশেষভাবে পেটের ত্বকের একটু আলাদা যত্ন নিতে হবে। প্রেগন্যান্সির সময়টাতে চেষ্টা করতে হবে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ত্বকের যত্নে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া। মাছ, পালং শাক, বাদাম, কুমড়ার বিচিতে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলও খেতে পারেন। টমেটো খাবেন অবশ্যই। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করবে। দিনে অন্তত দু’বার নিয়ম করে ময়েশ্চারাইজার বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা। নিয়মিত এক্সারসাইজ করা। এতে রক্ত চলাচল ভালো হবে, স্ট্রেচ মার্ক কম পড়বে। তবে এক্সারসাইজ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। এছাড়া স্ট্রেচ মার্ক এড়াতে ত্বক বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়ে ট্রেটিনয়েন জাতীয় ওষুধ মাখতে পারেন।
চিকিৎসা
ত্বক বিশেষজ্ঞরা ডার্মারোলার বা মাইক্রোনিডলিং নামক পদ্ধতি ব্যবহার করে স্ট্রেচ মার্কের চিকিৎসা করেন। এতে প্রথমে লোকাল অ্যানাস্থেটিক ক্রিম লাগিয়ে কিছুটা ত্বক অবশ করে রোলারটিকে চামড়ায় ঘষা হয়। এতে মরা চামড়া দূর হয় ও নতুন কোষ জন্মায়, রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং স্ট্রেচ মার্ক গঠন প্রতিহত হয়। এর ফলে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে কিছু কোলাজেন নতুন করে তৈরি হয়। স্ট্রেচ মার্ক পুরোপুরি চলে না গেলেও উন্নতি ঘটে। সর্বাধুনিক ফ্র্যাকশনাল কার্বন ডাই অক্সাইড লেজার পদ্ধতিতেও খুব ভালো কাজ হয়। এতে লেজার রশ্মি ডারমিস বা অন্তঃস্তরে ঢোকে ও নতুন কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। প্রেগন্যান্সির পরের স্ট্রেচ মার্কেরও অনেকটাই উন্নতি হয়। অনেক সময় স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে সার্জারিও করা হয় কারণ পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে খুব চওড়া দাগ তৈরি এবং ভেতরের চর্বি স্তর ফুলে বের হয়ে আসে। সে ক্ষেত্রে পুনরায় সার্জারি করে দাগটি সরু করে দেওয়া যায়।