সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বৈঠকে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের পথে রয়েছেন, আর তেহরানের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছে। তবে লেবাননে চলমান সংঘাত ও অব্যাহত হামলা আলোচনার অগ্রগতিকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে, উভয় পক্ষের স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের পর এটিই হবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রথম মুখোমুখি আলোচনা।
লেবানন ইস্যু
আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে লেবাননের পরিস্থিতি। ইরান বারবার জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। তেহরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিদলের প্রধান অগ্রাধিকার হলো লেবানন প্রশ্ন। এই ইস্যুতে অগ্রগতি না হলে তারা আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হয়েছে বলে মনে করছে না।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা
শনিবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ঘোষণা দেয় যে, লেবানন পরিস্থিতির কারণে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অস্বীকার করেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই নৌপথে টোল আরোপের বিষয় বিবেচনা করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখার বিষয়টি মধ্যস্থতাকারীদের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।
পারমাণবিক কর্মসূচি
আলোচনায় অগ্রগতি হলে পরবর্তী ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সুইজারল্যান্ড যাত্রার আগে জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করছেন এই সপ্তাহান্তের বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা অগ্রগতি সম্ভব হবে।
প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিদ্যমান মজুদ নিয়ে কী করা হবে, সে সিদ্ধান্ত পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল।
সেই সময়সীমা এখন শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানের মজুদ নিয়ে সিদ্ধান্তই অতীতে দুই পক্ষের আলোচনায় অন্যতম বড় বাধা ছিল। তাই এই ইস্যুতে সমঝোতা অর্জন সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।