রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারুশ্রী জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শোরুমের দেয়াল কেটে দোকানের সব স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। দুর্বৃত্তরা প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১২০০ ভরি রুপা (চাঁদি) এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী জেলায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় তিনি দোকান বন্ধ করে যান। শনিবার সকালে দোকান খুলেন তার এক কর্মচারী। গেট খুলেই তিনি দেখতে পান দোকানের ভেতরে দেয়াল কাটা, আলমারি, ড্রয়ারের তালা ভাঙা। চোরেরা সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। তূর্য জানান, তার এখানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও নগদ টাকা ছিল সব কিছুই চুরি হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারের দাবিতে রাজশাহীর জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্বর্ণের দোকান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে তারা দোকান বন্ধ করে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা দোকান খুলবেন না বলে জানিয়েছেন।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিকপক্ষ জানিয়েছে, দোকান থেকে আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১২০০ ভরি চাঁদি এবং নগদ ২৫ লাখ টাকা চুরি হয়েছে।
এদিকে, চুরির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাজুস। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন, প্রায় ২০০ ভরি সোনা, ১২০০ ভরি চাঁদি ও নগদ ২০ লাখ টাকার মতো চুরি করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহীর সব জুয়েলারির দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এদিকে, পুলিশ বলছে চোর চিহ্নিত করতে তারা কাজ শুরু করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, কী পরিমাণ স্বর্ণ চুরি হয়েছে তার তদন্ত করা হচ্ছে।