লেবাননে চলমান সংঘাত ও তীব্র উত্তেজনার আবহে সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে আজ রবিবার (২১ জুন) মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ দিন ধরে চলা অস্থিরতা নিরসনে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) ইরানের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ওয়াশিংটন থেকে রওনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার সেখানে পৌঁছে আলোচনার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনার প্রধান ইস্যু হলো লেবাননে চলমান সংঘাত। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকলে এই আলোচনা থেকে কোনো কার্যকর ফলাফল পাওয়া অসম্ভব। তেহরান বিষয়টিকে আলোচনার ‘এক নম্বর অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বৃহত্তর আলোচনার ধাপ শুরু করা নিয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়েও নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ইরানের সামরিক কমান্ড জানায়, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, ইরান যদি চূড়ান্ত চুক্তিতে না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথে নিজস্ব পদ্ধতিতে টোল আদায় করবে। মধ্যস্থতাকারীরা এখন এই জলপথের উত্তেজনা কমিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে মরিয়া।
এদিকে, আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, উভয় পক্ষ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা তৈরির পথ থেকে দূরে রাখতে একমত হয়েছে। চুক্তির আওতায় ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়সীমা ইতিমধ্যে শুরু হওয়ায় আজকের আলোচনায় এই মজুত নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের চাপ রয়েছে।
এই আলোচনায় পাকিস্তান ও কাতার সক্রিয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। এর আগে শুক্রবার লেবাননে নতুন করে সহিংসতা বাড়লে এবং দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুললে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে অবশেষে উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও কারিগরি পর্যায়ের এই আলোচনায় অংশ নেবেন।
সূত্র: সিএনএন