বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, চার ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ধান মাড়াইয়ের কাজ নিয়ে সৃষ্ট বিবাদের জেরে এক কৃষকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত জামিল হোসেন (৫০) রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কাজের সন্ধানে ভাঙ্গুড়ায় এসেছিলেন। এই ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে তাকে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিহত জামিল হোসেন প্রায় ২০ দিন আগে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন এবং কৈডাঙ্গা গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহতের মেয়ের জামাই আব্দুল কাদেরের ভাষ্যমতে, গত শনিবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী তাকে দ্রুত ধান মাড়াইয়ের কাজে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। জামিল হোসেন কিছুটা দেরি হওয়ার কথা জানালে অভিযুক্ত নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরবর্তীতে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর তাকে জোরপূর্বক তিন বিঘা জমির ধান মাড়াইয়ের কাজে বাধ্য করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, কাজ শেষে সন্ধ্যায় জামিল হোসেন অস্বস্তি বোধ করায় নদীতে গোসল করতে যান। সেখান থেকে ফিরে আসার পরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আব্দুল কাদের আরও জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত নেতা ভুক্তভোগী পরিবারকে দ্রুত মরদেহ নিয়ে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে মাথার পেছনে সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং নিজ বাড়িতেও তিনি নেই। স্থানীয় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত