পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জলজ প্রাণী, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিন দিনের অভিযানে ১৬টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছে বন বিভাগ। এতে বনাঞ্চলের খালগুলোর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে এসেছে।
জেলার চরহাদী ও চর হায়দার ফরেস্ট ক্যাম্পের উদ্যোগে গত ১৬ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চালানো এঅভিযানে বনাঞ্চলের বিভিন্ন খালে নির্মিত বড় ও ছোট বাঁধ কেটে অপসারণ করা হয়।
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে দুষ্কৃতিকারীরা মাছ আহরণের উদ্দেশ্যে এসব বাঁধ নির্মাণ করে আসছিল। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর চলাচল ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, যা বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। তাই চরহাদী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন লালচর, কাউয়ার চর ও মাঝের চর এলাকায় ৯টি এবং চর হায়দার ও চর আজমাইন এলাকায় আরও ৭টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়।
চরহাদী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, অধিকাংশ বাঁধ ৫ থেকে ৭ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের প্রবণতা দেখা যায়, যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর কবির বলেন, উপকূলীয় বনাঞ্চলের খালগুলো জলজ প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এসব খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ পুরো বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
দশমিনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অবৈধ বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া সংরক্ষিত বন ও জলজ সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।