পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরের পথে বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) নাকি হাইব্রিড (এইচভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড (পিএইচভি) প্রযুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত,এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে ইভি-ই ভবিষ্যৎ হলেও বর্তমান বাস্তবতায় হাইব্রিড ও পিএইচভি প্রযুক্তিই বাংলাদেশের জন্য বেশি উপযোগী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখনও ইভি চার্জিং অবকাঠামো সীমিত। অধিকাংশ চার্জিং স্টেশন ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় আন্তঃজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে ইভি ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণের ক্ষেত্রে চার্জিং সুবিধা না থাকায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘রেঞ্জ অ্যাংজাইটি’ও দেখা যায়।
অন্যদিকে টয়োটা প্রিয়াস, অ্যাকুয়া, করোলা হাইব্রিড ও হোন্ডা ভিজেল হাইব্রিড এর মতো হাইব্রিড গাড়ি গত দেড় দশক ধরে দেশে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব গাড়ির যন্ত্রাংশ সহজলভ্য এবং দেশব্যাপী দক্ষ মেকানিক ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রেও হাইব্রিড প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএইচভি প্রযুক্তি বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড উভয়ের সুবিধা একসঙ্গে প্রদান করে। এসব গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত শুধু বিদ্যুতে চলতে পারে, আবার চার্জ শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইব্রিড মোডে চলে যায়। ফলে চার্জিং অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা থাকলেও দীর্ঘ ভ্রমণে ব্যবহারকারীদের বাড়তি সমস্যায় পড়তে হয় না।
তারা বলছেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও ব্যাটারির আয়ুষ্কাল, প্রতিস্থাপন ব্যয়, সার্ভিস সুবিধা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় এর পরিবেশগত সুবিধাও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
এ অবস্থায় পরিবহন খাতে প্রযুক্তিগত নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ইভি-এর পাশাপাশি হাইব্রিড ও পিএইচভিকে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, হাইব্রিড গাড়ির বয়ঃসীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি, পিএইচভি-এর জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং ধাপে ধাপে ইভি চার্জিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পরিবহনে টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব।
তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি বৈদ্যুতিক না হাইব্রিড-এমন নয়; বরং দেশের অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।