সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:১২ এএম

ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরেক বাংলাদেশি যুবককে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লার্নাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গত ১২ জুন ইমন সাইপ্রাসের লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকার বাসা থেকে প্রথম কর্মদিবসে একটি কারখানায় যোগ দেওয়ার জন্য বের হন। ওই দিন রাতে তিনি বাসে যাতায়াতের সময় এক বন্ধুকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজের ডিজিটাল লোকেশন পিন পাঠান, যার পরপরই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লার্নাকা জেলার কোফিনু এলাকার একটি কসাইখানার কাছের নির্জন স্থান থেকে ঘাস ও খড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ইমনের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। 

সাইপ্রাস পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবক ইমনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেখানো জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ইমনের ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমনকে প্রথমে ছুরিকাঘাত এবং পরবর্তীতে কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই তাকে হত্যা করা হয়।

বাসে যাতায়াতের সূত্রে দুজনের পরিচয় হয়েছিল। অভিযুক্ত যুবক দাবি করেছে যে ইমন তাকে পূর্বে অপমান করেছিলেন এবং তিনি প্রতিশোধ নিতে এই কাজ করেছেন। তবে সাইপ্রাস পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় বা মুক্তিপণ আদায় করা।

ইমনকে হত্যার পর তার মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে মেসেজ পাঠিয়ে প্রথমে ৩৫,০০০ ইউরো এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে একটি অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত