ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় তাহেরের ফাঁসি

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের ৫ বছরের শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এ দ-াদেশ দেন। একই সঙ্গে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও অন্য একটি ধারায় ৭ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়।

আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে। একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আবু তাহের বাদুরগাছা গ্রামে ওই শিশুর বাড়ির পাশে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাবাসসুম বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে পাশর্^বর্তী একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই অজ্ঞাতদের আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ প্রতিবেশী আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আবু তাহের হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আবু তাহেরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। মাত্র ৫ কার্যদিবসে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে  ঘটনার ৪ মাসের মধ্যে মামলার রায় প্রদান করে আদালত। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে আদালত। এ ছাড়া লাশ গুমের অপরাধে ৭ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়।

মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় টেইলার্স কর্মচারী। এবং তার মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’ এ চাকরি করেন।

একমাত্র কন্যা সন্তানকে হারিয়ে শোকে কাতর এই বাবা-মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আবু তাহেরের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি কার্যকর চান তারা। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।

তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী মহোদয় এই মামলা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। আমরা চাই, উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত