কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় মাত্র ১-১ ড্রয়ে কেবল একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল পর্তুগালকে। ম্যাচজুড়ে নির্বিষ পারফরম্যান্সের কারণে ফুটবলপ্রেমী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে দলটিকে। বিশেষ করে ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে উজবেকদের বিপক্ষে বেঞ্চে রাখার দাবিও উঠেছে চারপাশে। তবে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে সব চাপ নিমিশেই উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।
পর্তুগাল কোচের দাবি দলের ভেতর কোনো মানসিক অস্থিরতা নেই। “আমরা শক্তিশালী এবং সম্পূর্ণ মনোযোগী। আমাদের এই গ্রুপটি আগের চেয়েও এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। এটি একটি প্রক্রিয়া। কোনো মানসিক চাপ বা টেনশন আমাদের দলের অংশ নয়। একটি খারাপ ফলাফলের পর সমালোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। কখনো কখনো তা অন্যায্য বা নেতিবাচক হয়, তবে আমরা যেভাবে ম্যাচের প্রস্তুতি নিই, এটি তার অংশ নয়।”
কঙ্গোর বিপক্ষের সেই ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে স্রেফ ২৫ বার বল ছুঁতে পেরেছেন রোনালদো, যা বিশ্বকাপে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। কোনো শট অন টার্গেট নেই, নেই চেনা সেই গতি। থিয়েরি অঁরির মতো কিংবদন্তিরা সরাসরি খোঁচা দিয়ে বলছেন, “দলকে গোল করতে হবে, আপনাকে নয়।” সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন তো কোচ রবার্তো মার্তিনেজকে ধুয়ে দিয়ে বলেছেন, “মার্তিনেজ রোনালদোকে মাঠ থেকে তোলার সাহস পান না।”
এমন এক নাজেহাল পারফরম্যান্স আর তীব্র সমালোচনার কাঁটা গায়ে মেখেই হিউস্টনের মাঠে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল। সেখানে রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি যেন হতেই হতো পর্তুগাল কোচ। তবে সমালোচনা ছাপিয়ে অধিনায়ক রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়ে এবং তার প্রশংসা করে মার্তিনেজ বলেন, “আমরা এমন একটি দল যারা বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করি। আমরা রক্ষণ সামলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে চাই এবং দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাক করতে চাই। এর জন্য আপনার এমন একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন যে নিজের মুভমেন্ট দিয়ে মাঠে ফাঁকা জায়গা (স্পেস) তৈরি করতে পারে; ক্রিশ্চিয়ানো এটি করার জন্য অন্যতম সেরা একজন। সে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের হয়ে খেলছে ও ডিফেন্ড করছে এবং দলের জন্য নিজেকে আরও উন্নত করতে চায়। সে সত্যিই দলের জন্য এক অনন্য রোল মডেল।”
এদিকে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই কলম্বিয়ার কাছে হেরে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে উজবেকিস্তান। তবে পর্তুগালের মতো বিশ্বমানের দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন দলটির ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও ক্যানাভারো। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি অধিনায়ক ম্যাচ শুরুর আগে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বমঞ্চে তাঁদের হারানোর কিছুই নেই। পর্তুগালের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে আটকানোর ছক নিয়ে ক্যানাভারো বলেন, “আমি যেমনটা সবসময় বলে এসেছি, আমাদের হারানোর কিছুই নেই। পর্তুগাল সবসময় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করে। তারা খুব ভালো এবং দ্রুতগতিতে ম্যাচ শুরু করতে চাইবে। আমরা সেটার জন্য প্রস্তুত থাকব। আমাদের নিজস্ব কৌশল আছে। আমি জানি আমরা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করব।”
পর্তুগাল শিবিরে রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা চললেও ক্যানাভারো তার শিষ্যদের স্রেফ একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে অন্ধের মতো মেতে থাকার ফাঁদে পা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। “আমরা কেবল ক্রিশ্চিয়ানোর ওপর মনোযোগ ধরে রাখতে পারি না। সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের একজন, তবে পর্তুগালের বেঞ্চেও আরও অনেক ভালো খেলোয়াড় এবং প্রতিভা রয়েছে। এটা সত্যি যে ক্রিশ্চিয়ানো যেকোনো পরিস্থিতি থেকেই গোল করতে পারে, তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।”
ম্যাচের হতাশা ভুলে তারা মাঠে পর্তুগাল এবার কতটা সুশৃঙ্খল ফুটবল উপহার দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে হিউস্টনের ভাগ্য। অন্যদিকে, ক্যানাভারোর রক্ষণাত্মক ব্লু-প্রিন্ট মাঠে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে ডিফেন্সের দেয়াল তুলতে পারলে বিশ্বমঞ্চে বড় কোনো অঘটনের স্বপ্ন দেখতেই পারে উজবেকিস্তান। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার রাত ১১টায়।