দাবদাহে অস্থির ইউরোপ, দায়ী কি এল নিনো?

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

ইউরোপের বাসিন্দারা কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস করছেন। চলতি বছর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে এটি তৃতীয় দফার তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনে কমার কোনো লক্ষণ নেই।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর (মেট অফিস) বুধ ও বৃহস্পতিবারের জন্য মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু অংশ এবং ওয়েলসে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রাও অনেক বেশি থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

মেট অফিস জানিয়েছে, অসহনীয় পরিস্থিতির পেছনে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও বড় কারণ, যা দাবদাহের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তীব্র গরমে সৃষ্ট শারীরিক ধকল (হিট স্ট্রেস) সব বয়সীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে মঙ্গলবার তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে এক গাড়ি থেকে চার ও দুই বছর বয়সী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কর্মকর্তারা অতিরিক্ত গরমকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারণা করছেন। গত সোমবার ফ্রান্সের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয় এবং একটি বিশাল অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

জার্মানিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দাবানলের আশঙ্কা বেড়েছে। বন, স্টুটগার্ট ও ফ্রাঙ্কফুর্টের মতো অঞ্চলে চলতি সপ্তাহের শেষে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

‘এল নিনো’ দায়ী কি?
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, এবারের এল নিনো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। অনেক গণমাধ্যম একে ‘সুপার এল নিনো’ বললেও এটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়।

এল নিনো মূলত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে সৃষ্টি হয়, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়াতে পারে। ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া আগের এল নিনো বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড গড়েছিল।

তবে বৈশ্বিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্ল্যাটফর্ম ‘ডব্লিউওয়াইএফ২৪’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইওনা ভারগিনি বলছেন, ইউরোপের দাবদাহের জন্য এল নিনোকে দায়ী করা ভুল। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগর এখনো শক্তিশালী এল নিনো তৈরির অবস্থায় নেই। এল নিনো তৈরি হলেও ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রার ওপর সুনির্দিষ্ট প্রভাব পরিমাপ করা কঠিন।

তার মতে, চলমান পরিস্থিতি মূলত ‘ক্লাসিক জেট-স্ট্রিম ব্লকিং’-এর কারণে। বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে দ্রুতবেগে বাতাস চলাচলে অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা উষ্ণ আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। এখানে মূল প্রভাবক হলো ‘হিট ডোম’ বা উষ্ণ বায়ুর স্তর, যা দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আরও তীব্র হয়। ভারগিনি দাবি করেন, এল নিনোকে ইউরোপের দাবদাহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করাটা অজুহাত ছাড়া কিছু নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত