জাফর ইকবালের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের তুলনা করলেন রাশেদ খাঁন

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থান ও তাদের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি জামায়াতের অধিকাংশ সংসদ সদস্যকে প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সাথে তুলনা করেছেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি না থেকে যারা যুদ্ধের পর বড় বড় কথা বলেন, জামায়াতের বর্তমান চিত্র অনেকটা সেরকমই।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া ওই পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, অধ্যাপক জাফর ইকবালের যেমন মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধে অংশ নেননি, অথচ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের অনেক নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা এমনভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন যা বিভ্রান্তিকর। তার অভিযোগ, যারা এক সময় পর্দার আড়ালে ছিলেন, এখন তারাই বিপ্লবের মহানায়ক হওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মাঠে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, যে সময় শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে রক্ত ঝরছিল, তখন এই নেতাদের কোনো হদিস ছিল না। অথচ সরকার পতনের পর এখন তাদের মুখ থেকেই জুলাই বিপ্লবের গল্প শুনতে হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে যারা কথায় কথায় সংস্কার ও বিপ্লবের হুংকার দিচ্ছেন, তারা দীর্ঘ সময় নীরব থেকে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করেছেন।

জামায়াতের নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে আন্দোলনের মাঠে তাদের কোনো উপস্থিতি ছিল না। একইভাবে জামায়াতের অনেক পুরুষ নেতাকেও মাঠের রাজনীতিতে দেখা যায়নি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচিত প্রার্থীকে নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। রাশেদ খাঁনের মতে, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের আগে এসব নেতাদের কোনো রাজনৈতিক সক্রিয়তা বা আলোর উপস্থিতি সাধারণ মানুষ দেখেনি।

সবশেষে রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, বিপ্লবের সময় যাদের দেখা যায়নি, এখন তাদের বিপ্লবের গল্প শোনানো অনেকটা যুদ্ধের ইতিহাস লেখক বা কথকের মতো। তিনি সরাসরি দাবি করেন, এদের মুখে বিপ্লবের হুংকার শোনা আর জাফর ইকবালের লেখা বিপ্লবের ইতিহাস পড়া কার্যত একই বিষয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের এই আচরণের ফলে জুলাই বিপ্লব ও রাষ্ট্রের সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো হালকা হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত