সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ঢাকা ৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ক্রমাগত ভালোর দিকে বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মির্জা আব্বাসের শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি। আমাদের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং এই সংসদের একজন পার্লামেন্টারিয়ান মির্জা আব্বাসের শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে এই পার্লামেন্ট এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পেরেছে বলে আমার মনে পড়ে না।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘মির্জা আব্বাস আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। তিনি সুস্থ হলেই এখানে (সংসদে) আসবেন।’
শফিকুল ইসলাম আরও জানতে চান, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারককে কেন্দ্র করে (মির্জা আব্বাসকে নিয়ে) যে গুজব আছে, সেটি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।’
এ প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গুজব, কে কী বলেছে, এগুলো নিয়ে জাতীয় সংসদ সময় নষ্ট করতে পারে না। আদালতে বিচারাধীন বিষয় ও গুজব সংসদের আলোচনার বিষয় হতে পারে না।’
এ সময় সংসদ সদস্য পদ বাতিল বিষয়ে স্পিকার বলেন, ‘আর কোনো সংসদ সদস্যের যদি সদস্য পদ চলে যায়, তা যথাসময়ে সংসদ থেকে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এর আগে গত ৬ মে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি সেদিন বলেন, ‘মির্জা আব্বাস অনেকটাই ভালো আছেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিন তাকে থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।’
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরে ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৪ এপ্রিল তাকে ফিজিওথেরাপির দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
বিচার নিশ্চিত না করলে মেয়াদ শেষ করতে পারবে না সরকার