এলপিআর-এ থাকা কর্মকর্তারাও পাবেন নবম পে স্কেলের সুবিধা!

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট পে কমিশনের সুপারিশমালা পর্যালোচনার ভিত্তিতে নবম জাতীয় বেতন স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। ২৪ জুন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির এক বিশেষ সভায় এই বেতন কাঠামোর রূপরেখা ও বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান ও বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন পে স্কেল প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত রূপ পেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা চলছে। এই দুই খাতের জন্য করা সুপারিশগুলো নিয়ে সভায় বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এবং সব পক্ষের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে খুব দ্রুতই তাদের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা পেশ করা হবে। এ লক্ষ্যে সচিব কমিটি আরেকটি জরুরি সভার ডাক দিতে পারে বলে জানা গেছে।

নতুন বেতন স্কেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, যারা বর্তমানে অবসর-উত্তর ছুটিতে বা এলপিআর সুবিধায় রয়েছেন, তারাও নবম পে স্কেলের আওতায় সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের এই মানবিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে অবসরগামী কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা হাতে পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে, যা সরকারি খরচের সামঞ্জস্য বজায় রেখে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

নবম পে স্কেলে ঠিক কত শতাংশ হারে মূল বেতন বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরকার তিনটি ভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সব গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনের ওপর ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্পে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে তাদের মূল বেতন শতভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির একটি বিশেষ প্রস্তাবনাও সচিব কমিটির বিবেচনায় রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রবর্তনের চেষ্টা করছে, যাতে সর্বস্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হন এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত