চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পরিধি বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ থেকে তাজা আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জলজ পণ্য, কাঁচা চামড়া, পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ আমদানির বিষয়টি বিবেচনার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পকারখানার আধুনিকায়নেও চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এর জবাবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি মানসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে চীন আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। এসব চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ২০১৬ সালে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) যোগ দেয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে চীনের ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় দশমিক দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া চীনভিত্তিক এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) বাংলাদেশকে আরও প্রায় দুই দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে ভারতের ঋণের পরিমাণ প্রায় এক দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় সাত দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় অর্ধেকই জ্বালানি খাতে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে চীন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বেইজিংভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চিম লি বলেন, বর্তমানে চীন এমন প্রকল্পে বেশি আগ্রহী, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগ করিডোর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ মধ্য এশিয়া বা মিয়ানমারের মতো কৌশলগত করিডোর সুবিধা না দেওয়ায় চীনের অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা সংযত অবস্থান দেখা যাচ্ছে।