মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে সেই মামলা প্রত্যাহার

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে কটুক্তির দায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬নং আমলি আদালতে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। পরে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করলে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. জাফর আলী ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিষয়ে একটি পোস্ট করেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

ওই পোস্টে তিনি লিখেন, চরমোনাই পীর সাহেবের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আমি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, আমার নির্বাচনী এলাকা সদর দক্ষিণ থানায় কেউ একজন চরমোনাই পীর সাহেবের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না এবং কে বা কারা এ মামলা দায়ের করেছেন, সে সম্পর্কেও আমার জানা নেই। বিষয়টি জানতে পেরে আমি বিব্রত হয়েছি। 

এমপি মনিরুল হক চৌধুরী লিখেন, পরবর্তীতে মামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার নেতাকর্মীদের বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনুরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। 

তারা জানিয়েছে, বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন। সদর দক্ষিণ থানার ওসি এবং আমার অ্যাডভোকেটকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দেন বাদী। তবে তিনি যুবদলের কোনো ইউনিটের সদস্যও নয় বলে জানিয়েছে মহানগর যুবদল। 

মামলায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১৯ জুন  মাননীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য করেন মুফতি ফয়জুল করীম। যেখানে তিনি বলেন, ‘মনিরুল হক চৌধুরীর দাড়ি রাসুলের সুন্নাতের দাড়ি নয়, তার দাড়ি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাড়ি। 

আমি মনে করি তার টুপি ইহুদিদের টুপি। তার পোশাক খৃষ্টান পাদ্রীদের পোশাক।’ তার এই বক্তব্য বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করা হয়। বিবাদিরা মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করে। এই মামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত